পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় অভাবের তাড়নায় প্রতিবেশীর বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ।
এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত হওয়া মোবাইল ফোন, সিম কার্ডসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,জেলার সদর উপজেলা হাবিজাবাদ এলাকার মজিবর রহমান (৩৫), একই এলাকার রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯), জুবায়ের (১৯) ও আলম (৩৭)।
আজ শুক্রবার ( ৬ মার্চ) পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় প্রিন্সিপাল মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি সংঘটিত হয়। এসময় ডাকাতরা ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের হলে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৪ মার্চ রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরীডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯) ও জুবায়ের (১৯) কে গ্রেফতার করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ রাতে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী নুরুল্লাহর প্রতিবেশী আলম (৩৭) কে সদর উপজেলার জিয়াবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আলম আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পুলিশ জানায়, আলম আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সংসারে অভাব-অনটনে ভুগছিলেন। তিনি নুরুল্লাহর কাছ থেকে এক বিঘা জমি বর্গা চেয়েও না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। পরে নুরুল্লাহ হজে যাওয়ার পর তার বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনায় তিনি কামরুল নামে এক সহযোগীর মাধ্যমে অন্যদের যুক্ত করেন।
ঘটনার দুই দিন আগে তারা পরিকল্পনা করে এবং নির্ধারিত রাতে বাড়ির জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতি সংঘটিত করে। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে নুরুল্লাহর স্ত্রী, শাশুড়ি ও শিশু সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়।
ডাকাতির সময় পাওয়া নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় এবং স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির জন্য সহযোগীদের কাছে দেয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত সাদ্দাম, জুবায়ের, রমজান, মজিবর ও আশিক দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে এবং আলমকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, এই ডাকাত চক্রটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চক্র। তারা পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার পলাতক আসামি কামরুল ও মনিরকে গ্রেফতার এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সকাল নিউজ/এসএফ


