ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নে এক ট্রাক চালককে চোর সন্দেহে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ওই ট্রাক চালকের নাম সিরাজ মিয়া। তিনি পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আফগান হোসেনের ছেলে এবং পেশায় একজন ট্রাক চালক। এ ঘটনায় তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, গেল বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে পক্ষিয়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দালাল বাড়ি সংলগ্ন সফিকের বাসার সামনের পৌঁছালে স্থানীয় আকতার হোসেন নামের এক ব্যক্তি সিরাজের পথরোধ করেন। পরে আকতার তার সহযোগী মিজান, এরশাদ ও কামরুলসহ বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে মব সৃষ্টি করেন। এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে চোর আখ্যা দিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টেনে-হেঁচড়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা সবাই মিলে সিরাজকে গভীর রাতে ঘর থেকে বাহিরে নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্মম নির্যাতন চালায়। এ সময় হাতুড়ি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে মাংস থেঁতলে দেয় এবং প্লাস দিয়ে হাতের নখে আঘাত করা হয়।
পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১টার দিকে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন থেকে তার স্ত্রী মরিয়ম বেগমকে ফোন করে সিরাজকে আটক করার বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি মিনতি করলেও অভিযুক্তরা তা মানেনি।
সিরাজের স্ত্রী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাতে খবর পেয়ে তার স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে অভিযুক্তরা প্রথমে দুই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকা চুক্তি বিনিময়ে স্ট্যাম্পে লিখিত করে পরদিন সকাল ৮টায় গুরুতর আহত অবস্থায় অভিযুক্তরা সিরাজকে ছেড়ে দেয়।
আহত সিরাজ বর্তমানে ভোলা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আকতার জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় চোরের উৎপাতে তারা অতিষ্ঠ। ঘটনার দিন সিরাজ তার বাসার পিছনের জানালা দিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন যা তিনি বাসার ছাদ থেকে দাঁড়িয়ে দেখতে পান। পরে ছাদ থেকে নিচে নেমে তাকে ধরে ঘরের মধ্যে নিয়ে এসে মিজানসহ অন্যদের খবর দেন।
সিরাজকে নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে মিজান জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সিরাজকে আটককৃত অবস্থায় দেখতে পান। এর বাহিরে তিনি কিছু জানেন না বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ ছাড়াও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তরা এ বিষয়ে সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিরাজ দীর্ঘদিন ওই পথ দিয়ে তার বাড়িতে যাতায়াত করেন। বাজারে সহপাঠীদের সঙ্গে চায়ের আড্ডা আর খোশগল্প শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফেরা তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। চুরির সঙ্গে সিরাজ কখনোই জড়িত ছিলো না বলে দাবী স্থানীয়দের। কেউ কেউ সিরাজকে চোর আখ্যা দিতে শুনে কিছুটা হতবাকও হয়েছেন।
এবিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি তার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দায়ের করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। একজন ভালো মানুষকে চুরির অপবাদ দিয়ে রাতভর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করছেন।
ছবি- চোর সন্দেহে নির্যাতনের শিকার ট্রাক চালক সিরাজ।
সকাল নিউজ/এসএফ


