মতলব বাজদের রাজনীতে কবর রচিত হতে শুরু করেছে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই নির্বাচন স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন।’
তিনি বলেন, ‘অনেক হয়েছে এখন তোরা রাজীনিতি থেকে সরে যা। রাজনীতি কোন ব্যবসা নয়, চাঁদাবাজি নয়, লুণ্ঠন নয়, দুর্নীতি নয়, রাজনীতির নাম আমার মায়ের গায়ের হাত দেয়া নয়।’
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে জামায়ত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতে আমির বলেন, ‘আপনি দুর্নীতি করবেন আবার রাজনীতিও করবেন তাতো হবে না। রাজনীতি তো নিজেই রাজা। দুর্নীতি যারা করে তারা তো মাতাল, চোর, লুণ্ঠনকারী। তারা বিদেশে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আপনাদের ভালোবাসা-মায়ায় আমরা কথা দিচ্ছি, ওদের মুখের ভিতর হাত দিয়ে সবগুলো বের করে আনা হবে।’
তরুণদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যৌবন ও তারুণ্যদৃপ্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। তরুণ যুবকরা তোমরা কি প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ আগামীর বাংলাদেশ আমরা তোমাদের হাতে তুলে দিব। আমরা বেকার ভাতা দিয়ে অপমানিত করতে চাই না। তোমাদের শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক ও দক্ষ কারিগর বানিয়ে আমরা তোমাদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দিব। তোমাদের পাইলটের আসনে বসাবো তোমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে আর আমরা যাত্রী হিসেবে পিছনে বসে তোমাদের জন্য দোয়া করব।’
তিস্তা নদী প্রসঙ্গে ডা.শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা এ অঞ্চলের উন্নয়নের অহংকার হওয়ার কথা ছিল। তিস্তার নাম এখন এক সাগর দুঃখ। তিস্তা হবে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু। আমরা কথা দিচ্ছি যেকোন মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। কারও লাল চক্ষু সহ্য করব না। আমার দেশ আগে, দেশের মানুষের স্বার্থ আগে।’
স্থানীয়দের দাবি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এ অঞ্চলের অনেকগুলো যৌতিক দাবি রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা। এ রাস্তা দেখে মনে হয় রাস্তা না কি সাগর। অসুস্থ রোগীর এখানে জান কবর হয়ে যায়। কেন? উত্তরাঞ্চল কি বিমাতার সন্তান? যে তাকে অবহেলা অবজ্ঞা করতে হবে? উত্তরাঞ্চল দিয়ে উন্নয়নের বিসমিল্লাহ করা হবে।’
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘এদেশের মানুষ তোমাদের অনেক দেখেছে, এবার আমাদের সুযোগ দাও। আমরা বসন্তের কোকিল নই, আমরা দুঃখেও আছি বিপদেও আছি সুখেও আছি। আমরা দেশ ছেড়ে পালাব না, মাটি কামড়ে থেকেছি আগামীতেও থাকব। দেশবাসীর বুকেই আমরা আশ্রয় নিই।’
উন্নয়নের বার্তা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছি, উত্তরবঙ্গকে কৃষিশীল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলব। তখন কর্মসংস্থান যেমন হবে তেমনি সারাদেশ উপকৃত হবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হবে। আমরা গোটা এলাকাকে শিল্পসমৃদ্ধ করতে চাই। এজন্য আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যদি আমাদেরকে দেশের সেবা করার সুযোগ দেন, আমরা যেন আপনাদের ভুলে না যাই। আমরা যেন আপনাদের হৃদয়ে শক্তভাবে লালন করতে পারি।’
অমুসলিমদের বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অন্য ধর্মের ভাইদের আমরা চাদর দিয়ে বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই। সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা বাগান সাজাব। বিচার বিভাগ দেখবে না, কে সাধারণ মানুষ আর কে প্রেসিডেন্ড? বিচার কাউকে মুখের দিকে তাকাবে না। ভাই গরম ভাতে বিড়ার বেজার। যারা সারাজীবন মানুষক কষ্ট দিয়েছে তারা এখন ভয় পাচ্ছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একই বিচার তোমার জন্য ও আমাদের জন্য।’
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে যে বেতন-সম্মানী দেয়া হয় তা চলার মত নয়। রাষ্ট্রই তাদের দুর্নীতির সুযোগ করে দিয়েছে। আগে সম্মান জানাতে হবে, সম্মানের সাথে বাঁচতে দিতে হবে। তারপর দুর্নীতি হলে বিচার করতে হবে। আমরা আগে সম্মান দিতে চাই।’
নারীদের উদ্দেশ্যে জামায়াতের আমির বলেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দিবো মায়েদের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেয়া হবে না। এ দেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা। তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধার আসনে বসাতে চাই। তারাও দেশ গড়ায় অংশ নিবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবে। তাদের কর্মস্থল হবে নিরাপদ আর তারা কাজ করবে মর্যাদার সাথে। আমরা নারীদের সেটা নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।’
লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এ জনসভায় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার ৭টি সংসদীয় আসনের ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
সকাল নিউজ/এসএফ


