আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের পর চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়াই ২৫৩ আসনে নির্বাচনী ঐক্য করেছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১০ দল।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোটের আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে। সমঝোতায় জামায়াতকে ১৭৯, এনসিপি ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২০, খেলাফত মজলিশ ১০, এবি পার্টি ৩, এলডিপি ৭, বিডিপি ২ ও নেজামে ইসলাম পার্টিকে ২ আসন ছাড়া হয়।
বাকি ৪৭টি আসন রাখা হয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের জন্য। তবে চরমোনাই পীর জোটে না এলে এসব আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে।
ইসলামী আন্দোলন বৃহস্পতিবার দুপুরে জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক এবং রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলন বর্জন করলেও, দলটির জন্য ৪৭ আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান জানাবে ইসলামী আন্দোলন। তবে দলটি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ঐক্যে না এলে ফাঁকা রাখা ৪৭ আসনেও জামায়াত প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তখন দলটি নির্বাচনে লড়বে ২২৬ আসনে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, ‘কিছু আসনে এখনও ঝামেলা রয়েছে, এটি প্রত্যাহারের পর ঠিক হবে।’ জামায়াত নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, তারা আশাবাদী ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনী ঐক্যে যোগ দেবে। তবে চরমোনাইয়ের পীরের দলের কেউ মুখ খোলেননি।
২৫৩ আসনের সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াত ১৭৯, এনসিপি ৩০, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০, খেলাফত মজলিসের অপরাংশ ১০, এলডিপি ৭, এবি পার্টি তিন এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ও বিডিপি দুটি করে আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ঐক্যের একক প্রার্থী ঘোষণায় গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিল জামায়াত। তবে চরমোনাই পীরের দল এতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানালে, তা স্থগিত করা হয়। জামায়াত দলটিকে ৪৫ আসন ছাড়তে রাজি ছিল। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ৭০ আসনের কমে নির্বাচনী ঐক্যে রাজি হয়নি। বরং বুধবার দলীয় বৈঠকের পর আভাস দিয়েছিল, অন্যান্য মামুনুল হকের খেলাফত, নেজামে ইসলাম, খেলাফত মজলিসের অপরাংশ, খেলাফত আন্দোলনসহ ইসলামী দলের সঙ্গে বিকল্প জোট হতে পারে।
সকাল নিউজ/এসএফ


