তীব্র শীতে ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সিরাজদিখান এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম তারেক (৪৫)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা এবং চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী পূর্বাশা পরিবহনের সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মুহূর্তের মধ্যেই নিভে যায় তার জীবনের আলো।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে একটি ট্রাক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ভোরের ঘন কুয়াশায় সামনে থাকা ট্রাকটি চোখে না পড়ায় পেছন থেকে আসা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ট্রাকটির পেছনে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ভেতরে থাকা একাধিক যাত্রী বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান ও শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকা পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করে আহতদের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে নিহত তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৫০৭৬ এবং ট্রাকটির নম্বর যশোর-ট ১১-৬২৩৯। সংঘর্ষের ফলে বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনার পর দ্রুত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ায় এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’
হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে চালকদের প্রতি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার সময় অবশ্যই হেডলাইট ও সড়কবাতি ব্যবহার করতে হবে, নিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালাতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ওভারটেক এড়িয়ে চলতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চললে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
সকাল নিউজ/এসএফ


