সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দায় থেকে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা কখনোই মুক্তি পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে খালেদা জিয়ার জানাজার আগে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নানা পদ্ধতিতে নিপীড়ন ও মিথ্যা অভিযোগে কারাবন্দি রাখা হয়েছিল। তবে তার অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশনেত্রী কখনও আপস করেননি।’
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও দেশের স্বার্থে অদম্যতাই তাকে ব্যক্তিগত শত্রু হিসেবে তৈরি করেছিল জানিয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘স্বৈরাচারী শাসকরা-শেখ হাসিনা, হুসেইন মুহম্মাদ এরশাদ, এমনকি এক-এগারো সরকারের সময়ে-তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও কারাবাসের চেষ্টা চালিয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় খালেদা জিয়া তার দুই শিশু পুত্রসহ পাকিস্তানি বাহিনীর বন্দী ছিলেন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্যাসিবাদী শাসকের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে দুই বছরেরও বেশি সময় অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়, যেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা না পাওয়ায় তার স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়াও তার অসুস্থতা বাড়িয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘দল-ভেদ নির্বিশেষে, সমগ্র দেশবাসীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে খালেদা জিয়া বিদায় নিয়েছেন। তিনি ছিলেন এক মহীয়সী নারী, সংগ্রামী রাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়ক, যার জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বার্তা ছিল, দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নেই; বাংলাদেশই আমার ঠিকানা। এই দেশ, এই দেশের মাটি ও মানুষই আমার সব কিছু।’
পরে লাখো জনতার অংশগ্রহণে খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয় এবং তাকে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হয়।
সকাল নিউজ/এসএফ


