আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে চলমান দূরত্ব মেটাতে বৈঠক ডেকেছে বিএনপি। এতে মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর ১৫ জন শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা ৫ দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও গণফোরামের শীর্ষ নেতা।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে।
জানা গেছে, মিত্র নেতাদের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা বৈঠকে অংশ নেবেন। নির্বাচনি আসনসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন নেতা থাকার কথা রয়েছে।
মিত্র একাধিক দলের নেতারা জানান, আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির কাছ থেকে তারা দ্রুত সুষ্ঠু সমাধান চান। যাতে বাইরে কোনো নেতিবাচক বার্তা না যায় যে, বিএনপির সঙ্গে মিত্রদের বিরোধ রয়েছে। তারা বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই পথ চলতে চান।
এর আগে, আসন নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেই বুধবার একটা বৈঠক করেন মিত্ররা। ওইদিন বিকালে রাজধানীর পল্টনে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ২৯টি দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে আসন নিয়ে বিএনপির প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মিত্ররা। সিদ্ধান্ত হয় বিএনপির সঙ্গে শিগগিরই তাদের বৈঠকে বসার।
ওই বৈঠকে অংশ নেন ৫ দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, নেজামে ইসলামী পার্টি ও গণফোরামের শীর্ষ নেতারা। এসব দল ও জোট বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনেও ছিল। মিত্র রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ছিলেন- মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকিসহ ৫ দলের শীর্ষ নেতারা।
এছাড়া ছিলেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, সমন্বয়ক জাতীয় দলের অ্যাডভোকেট এহসানুল হুদা, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের অ্যাভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নেজামে ইসলামী দলের আশরাফুল ইসলামসহ মোট ২৯টি দলের শীর্ষ নেতারা।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সঙ্গেও বৈঠক করে বিএনপি। তবে সেখানে আসন নিয়ে সমঝোতার সুরাহা না হওয়ায় বৈঠক শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে যান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ দলটির নেতারা।
নির্বাচন সামনে রেখে ৩ নভেম্বর প্রথম পর্যায়ে ২৩৬ আসনে দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল বিএনপি। এর এক মাস পর ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে মোট ২৭২ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে বিএনপি। এখন ফাঁকা রয়েছে আরও ২৮টি আসন। বিএনপি থেকে বলা হয়েছে, এই ফাঁকা আসনগুলোর বেশির ভাগ মূলত শরিকরাই নির্বাচন করবেন।
তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী দল ও জোটের প্রার্থী তালিকা জমা দিলেও তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা বিস্মিত, অনেকে ক্ষুব্ধও।
সকাল নিউজ/এসএফ


