ঝাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে সকল প্রকার মাছ শিকারে আগামী দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬১ দিন ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সব প্রকার জাল ফেলা ও মাছ শিকার বন্ধ থাকবে।

এই নিষেধাজ্ঞাকে ঘিরে ভোলার জেলে পল্লীগুলোতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা মৎস্য বিভাগ। মৎস্য বিভাগ বলছে, এই সময়ে নদীর অভয়াশ্রমগুলোতে আগত ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রতিবছরই এই সময়টিতে মাছ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তাই মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে জেলেদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে মৎস্য বিভাগ।

তবে দীর্ঘ দুই মাসের নিষেধাজ্ঞার কবলে পরে ভোলার জেলেদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। কারণ নিষেধাজ্ঞার সময়ে তারা বেকার হয়ে পড়েন। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে পড়তে হয় বিপাকে। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খেতে হয় তাদের। জেলেদের দাবী, নিষেধাজ্ঞার সময়ে এনজিওর কিস্তি বন্ধসহ জেলেদের যথাযথ খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করার।

শনিবার সকাল থেকে ভোলার তুলাতুলি, কাঠিরমাথা, নাছিরমাঝি, হেতনার খাল, ভোলার খাল, মাঝিরহাট মাছঘাটগুলোতে দেখা যায়, জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের জাল নৌকাসহ অন্যন্য সরঞ্জাম উপরে তুলে নিচ্ছেন। সরকারি আইন অমান্য করে নদীতে নামবেন না তারা।

জেলেদের অভিযোগ, প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাধারণ জেলেরা নদীতে না নামলেও কিছু অসাধু জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে অহরহ মাছ শিকার করে। ফলে অভিযান ব্যর্থ হয়ে ইলিশ উৎপাদন কমে যায়। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইব্রাহিম মাঝি, রহিম মাঝি, রাব্বী মাঝিসহ কয়েক জেলে জানান, আজ থেকে আর নদীতে নামবেন না। তাই জাল নৌকা উপরে তুলে নিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ঠিক কি করবেন সে চিন্তাই এখন তাদের চোখের সামনে। চলতি মৌসুমেও ইলিশ সংকট ছিল, আয়-রোজগার ভালো হয়নি। এখন আবার নিষেধাজ্ঞা কিভাবে সংসার চলবে বুঝতে পারছেন না।

জেলে আব্দুল্লাহ মাঝি জানান, এনজিও থেকে ধারদেনা করে জাল নৌকা করেছি। এখন মাছ ধরতে না পারলে কিস্তি কোথায় থেকে দিবেন। তাই নিষেধাজ্ঞার সময়ে এনজিওর কিস্তি নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়েছে মৎস্যঘাট ও আড়ৎগুলোতেও। তাদের আড়ৎগুলো গুছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আড়ৎদার হাসান সাজি জানান, শুধু জেলে নয়, ব্যাপারী, পাইকার ও আড়ৎদাররাও এই নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন। তাই দুই মাস তারাও বেকার হয়ে পরবেন।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের আর্থিক সংকট নিরসনে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফ চাউল দেওয়া হবে জেলেদের। তবে সঠিক সময়ে চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আগামী মার্চ এপ্রিল দুই মাস ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ নদীতে নামলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তার চাল দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’

উল্লেখ্য, ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। এ ছাড়াও বিপুল সংখ্যাক অনিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। ফলে এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত প্রায় বিপুলসংখ্যক জেলের জীবিকা ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়বে।

সকাল নিউজ/এসএফ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version