কুড়িগ্রামে উল্টে পড়া খণ্ডবিখণ্ড সেতুর ওপরে কাঠের পাটাতনে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারীসহ ৭ গ্ৰামের ১৫ হাজার মানুষ। সেই কাঠের পাঠাতনও খুঁটি স্বল্পতায় কাত হয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
সাইকেল, মোটরসাইকেল উঠলে ঝিকঝিক শব্দ করে। যা এখন এলাকাবাসীর জন্য দুর্ঘটনার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের নকুন্দপুর এলাকার জামতলা-কচুয়ারপাড়-মাধাইখাল সংযোগ সড়কের ডুবড়ির সেতুটি প্রায় ১৫ বছর আগে উল্টে ধসে পড়ে বিভিন্ন অংশ ভেঙে খান খান হয়। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পথচারীসহ হাজার হাজার মানুষ।
ব্যবসা-বাণিজ্য, হাটবাজার, কৃষি পণ্য আনা নেওয়া, রোগী পরিবহন,স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়েন তারা। বিকল্প পথে চলতে অনেক দূর ঘুরে অর্থ এবং সময় ব্যয় করতে হয় তাদের। বহু আবেদন নিবেদনের পরে গত বছর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ধসে পড়া সেতুর উপরে কাঠের পাটাতন দিয়ে হাঁটা পথে চলাচলের উপযোগী করা হয়। তাও বর্তমানে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
খুঁটির অভাবে নানা স্থানে দেবে গিয়ে উঁচু নিচু হয়ে কাত হয়ে পড়েছে ।পাটাতনের নানা জায়গায় ফাটল ধরে ভেঙে গেছে ।চলতে গেলেই দুলে ওঠে। দোয়া পড়ে সেতুতে উঠতে হয়। রিক্সা,ভ্যান বা ঠেলাগাড়ি পার হতে পারে না। পথচারীরা হাঁটা পথে অথবা সাইকেল, মোটরসাইকেলে কোনোমতে পার হন। এতেও যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তাদের।
জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভেতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদ জানায়, ২০০৩ সালে ওই সেতুর পূর্ব দিকে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এটি ধসে পড়ার পর ২০০৬ সালে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
নিম্নমানের কাজ ও পাইলিং না করে সেতুটি নির্মাণ করে কতৃপক্ষ। বিস্তৃত দোলার পানি এ সেতু হয়ে নিস্কাশন হয়। পানির চাপে নির্মাণের তিন বছরের মাথায় সেতু দেবে উল্টে ধসে পড়ে। খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পরে বিভিন্ন অংশ। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পায়রাডাঙ্গা, ডাকিনিরপাড়, ভিতরবন্দ, ডায়নারপাড় এবং কালিগঞ্জ, কচুয়ারপাড়, মাধাইখাল এলাকার হাজার হাজার মানুষ।
বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরমে ওঠে তাদের। তখন নৌকা ছাড়া পার হওয়ার উপায় থাকে না। এলাকার মানুষের জীবন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে একটি গার্ডার সেতু পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
সকাল নিউজ/এসএফ



