কুড়িগ্রামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কড়াই স্থাপনের দাবি করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। তাদের ‘মেগাকিচেন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত এই বিশাল কড়াইয়ে একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মানুষের জন্য রান্না করা সম্ভব।
সুবিধাবঞ্চিত মানুষের খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করা ও দুর্যোগকালে দ্রুত রান্না করা খাবার বিতরণের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে কুড়িগ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কড়াইটির উদ্বোধন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব (দুলু)।
আয়োজকেরা জানান, কড়াইটির আয়তন ৭৭০ বর্গফুট, ব্যাস ৩১ দশমিক ৫ ফুট এবং গভীরতা ৪ দশমিক ৫ ফুট। এতে একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মানুষের জন্য খাবার রান্না করা যায়। পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন ১ লাখ মানুষের জন্য রান্না করে কড়াইটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
শনিবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব জানান, উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলা দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকা। এসব এলাকায় বন্যার সময় লাখো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধের রাস্তা বা অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তখন সরকারের পক্ষ থেকে শুকনা খাবার দেওয়া হলেও অনেক সময় পানিতে চুলা ডুবে থাকায় মানুষ রান্না করতে পারে না। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য রান্না করা খাবার বিতরণ করে আসছে, যা সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।
আসাদুল হাবিব বলেন, ‘ভবিষ্যতে যেকোনো দুর্যোগে এই কড়াই ব্যবহার করে দ্রুত বড় পরিসরে রান্না করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। তাই আমি এই কড়াই উদ্বোধন করতে ও দেখতে এসেছি। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই কাজগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে ভবিষ্যতে সমন্বয় করে করা যাবে।’
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তফা), যুগ্ম–আহ্বায়ক হাসিবুর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
নদীভাঙন ও দারিদ্র্যপ্রবণ কুড়িগ্রামের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্যোগের সময় দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন আয়োজকেরা।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কড়াই উদ্বোধন উপলক্ষে আজ এক লাখ মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার ১০০টি মসজিদভিত্তিক জামাতে এই ইফতার বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি লালমনিরহাট জেলায় প্রায় সাত হাজার মানুষকে একসঙ্গে বসিয়ে ইফতার ও বিরিয়ানি খাওয়ানো হবে।’
সকাল নিউজ/এসএফ



