ফ্রান্সের ফার্স্টলেডি ব্রিজিত ম্যাক্রন সম্পর্কে অনলাইনে বিদ্বেষমূলক মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর দায়ে ১০ ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন প্যারিসের একটি আদালত।
ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে নানা বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করা হয়; এমনকি ‘ফার্স্টলেডি পুরুষ’—এমন মন্তব্যও করা হয়। এর প্রেক্ষিতে প্যারিসের একটি আদালত হয়রানি করা ১০ জনকে শনাক্ত করে। ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তাদের সাজা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব বলা হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে স্কুলশিক্ষক, আর্ট গ্যালারির মালিক ও ধর্ম প্রচারকও রয়েছেন। আদালত এই ১০ ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন হয়রানি বন্ধে বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক কোর্স থেকে শুরু করে আট মাসের স্থগিত কারাদণ্ড।
এ ছাড়া এক আবাসন ব্যবসায়ীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যিনি বিচার চলাকালে আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। কয়েকজন সাজাপ্রাপ্তকে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ান বলছে, ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর লিঙ্গ ও যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন বিদ্বেষপূর্ণ কমেন্ট ও পোস্ট করেছিলেন অভিযুক্তরা। অনেকে বলেছিলেন, ব্রিজিত পুরুষ হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন। এছাড়া অনেকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ব্রিজিতের বয়সের পার্থক্য নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।
‘ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ একজন পুরুষ ও তার নাম জিয়েন-মিচেল ট্রোগনিউ’—এমন দাবি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে মামলাও করেছেন। মানহানির সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে কনজারভেটিভ পডকস্টার কানডেস ওয়েনসকে। এই পডকাস্টটি বিভিন্ন সময় ব্রিজিতের লিঙ্গ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিল।
তথ্যসূত্র- দ্য গার্ডিয়ান।


