ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের ৪ টি আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ৯২ হাজার ২৯১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। তবে কক্সবাজার-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সবচেয়ে হেভিওয়েট প্রার্থীদের একজন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ, এইচ, এম হামিদুর রহমান আযাদ ৩৩ হাজার ৬৫৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারী) মধ্যরাত ২ টা ২০ মিনিটে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান।
তার ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ লক্ষ ২২ হাজার ১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল্লাহ আল ফারুখ দাঁড়িপাল্লা প্রীতিকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ, এইচ, এম হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রীতিকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শহিদুল আলম বাহাদুর দাঁড়িপাল্লা প্রীতিকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প অধ্যুষিত সীমান্ত এলাকা কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপির জেলা সভাপতি সাবেক হুইপ শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর নুর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রীতিকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ছিলো মাত্র ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: আ মান্নান জানান, ভোটারদের নিরাপদ ও ভয়ভীতিহীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি ছিলো। যার কারণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কক্সবাজারে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
একইদিনে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। তবে কক্সবাজারে গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে।
সকাল নিউজ/এমএম


