পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচেই একই একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানার নেতৃত্বে গড়া পেস আক্রমণ নিয়ে খেলেই শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে স্বাগতিকরা। দেশের ক্রিকেটে অস্থিরতার সময় এমন সাফল্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচেও পেস বোলিং আক্রমণে কোনো পরিবর্তন না আনার সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের জন্য সেরা ছিল বলে মনে করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার মতে, এই বোলাররাই ছিলেন দলের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।
সাধারণত পেস বোলারদের ক্ষেত্রে ঘন ঘন পরিবর্তনের নীতি অনুসরণ করা হলেও এবার সেই পথে হাঁটেনি দল। মিরাজ জানান, সেরা বোলারদের ওপর আস্থা রাখাই ছিল তাদের পরিকল্পনা।
ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, তারা সেরা বোলিং বিকল্প নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। মুস্তাফিজ, তাসকিন ও রানা দারুণ বোলিং করেছেন। বিশেষ করে তাসকিনের উইকেটগুলো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। না হলে ম্যাচ হারার সম্ভাবনা ছিল। খেলোয়াড়দের পুরো সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল, কারণ তাতে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে দলের জন্য র্যাঙ্কিং পয়েন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো ধরে রাখতে পারলে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাওয়ার পথ সহজ হবে। তাই দল এখন ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মুস্তাফিজুর রহমান মিলে পুরো সিরিজে ১৯টি উইকেট নেন। গড়ে তাদের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। প্রথম ম্যাচে পাঁচ উইকেট নিয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন রানা। মোস্তাফিজ খুব বেশি উইকেট না পেলেও তিন ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেকথ্রু এনে দেন।
রোববারের ম্যাচে বড় বড় উইকেটগুলো নেন তাসকিন। তিনি প্রথমে সাহিবজাদা ফারহানকে আউট করেন এবং পরে মোহাম্মদ রিজওয়ানকেও ফিরিয়ে দেন। তখন পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১৭ রানে তিন উইকেট। পরে ফাহিম আশরাফকে চাপে ফেলে আউট করেন এবং শেষদিকে সেঞ্চুরি করা সালমান আগাকেও ধীরগতির বলে সাজঘরে ফেরান।
মিরাজ বলেন, তাসকিন দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী। পরিস্থিতি বুঝে কী বল করতে হবে তা তিনি জানেন এবং নিজেকে কীভাবে উজ্জীবিত রাখতে হয় তাও বোঝেন।
মোস্তাফিজ সম্পর্কে মিরাজ বলেন, দুই ছক্কা খাওয়ার পরও তিনি বিচলিত হননি। বারবার ফিরে এসে ভালো বোলিং করেছেন। এমন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সিরিজসেরা নির্বাচিত নাহিদ রানাও প্রত্যাবর্তনের পর নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। মিরাজ বলেন, দলে ফিরে এসেই তিনি অসাধারণ বোলিং করেছেন এবং প্রথম ম্যাচেই পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।
মিরাজের মতে, প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করা ছিল দারুণ সাফল্য। দ্বিতীয় ম্যাচেও ১২ ওভারের পর দল ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে সেই ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ।
সকাল নিউজ/এসএফ


