ঘন কুয়াশা আর চলমান তীব্র শীতের প্রকোপে সারা দেশের মানুষের নাকাল অবস্থা। হাড়কাঁপা শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষও পড়েছেন বিপাকে।

গত কয়েক দিনেও কমেনি শীতের তীব্রতা। বেড়েছে কুয়াশার ঘনত্ব এমনকি দেশের কোথাও কোথাও কুয়াশা পড়ছে তুষারপাতের মতো। এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য মতে, ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডা হাওয়ার প্রভাবে সর্বস্তরের মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিঘ্ন ঘটছে যানবাহন চলাচলেও, বিশেষ করে ভোর থেকে বেলা ১১ টা, ১২ টা পর্যন্ত দেখা মিলছে না সূর্যের। শীতবস্ত্রের অভাবে বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ।

তীব্র শীতে সড়ক, নৌপথ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, কুয়াশার এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং জানুয়ারির শুরুতে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল ও হাওর থেকে উৎপন্ন কুয়াশা, বিকিরণজনিত কুয়াশা, পাহাড়ি এলাকায় সৃষ্ট কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ুতাড়িত কুয়াশা প্রবেশ করায় সামগ্রিকভাবে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। এই কুয়াশা মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে অবস্থান করায় সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে ঠাণ্ডার অনুভূতিও তীব্র হয়ে উঠছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলী উপজেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সোমবার সকালে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এদিন সারা দেশের মধ্যে নিকলীতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়ার হিসাবে এটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ।
এদিকে একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নিকলী আবহাওয়া অফিস রবিবার জানিয়েছিল, জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসজুড়েই শীতের প্রভাব থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় দিনের মতো ঘন কুয়াশার কারণে ঢাকা-বরিশালসহ সারা দেশের নদীপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল বরিশাল নৌ-বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। তবে দিনের বেলায় অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচল করেছে।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো সন্ধ্যার পর থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যার পর থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

কুয়াশায় চারপাশ ঢাকা থাকায় ঠিক মতো দিনের আলো দেখা যাচ্ছে না দেশের অধিকাংশ জেলায়। গতকাল সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার তাপমাত্রা নেমেছে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গায় সড়কে যানবাহনগুলো দিনের বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। উত্তরের শীতল বাতাসে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন খেটেখাওয়া অসহায় মানুষ। চুয়াডাঙ্গার আশপাশের জেলাগুলোতেও কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা থাকবে বলে চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। নতুন করে শৈত্যপ্রবাহও দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান।

সকাল নিউজ/এসএফ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version