প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের দাবিতে রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন ‘সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর আন্দোলন’র অন্যতম প্রতিনিধি মো. আবির খান রবিন।
তিনি বলেন, ‘গতকাল সোমবার আমরা আন্দোলন চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা ও সিনিয়রদের নির্দেশনা মোতাবেক রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমাদের লাগাতার কর্মসূচি আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করছি। পাশাপাশি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার ব্যাপারে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’
রবিন বলেন, ‘আমাদের লাগাতার এক দফা আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। একই সময়ে মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের প্রতিনিধিদের সাথে মিটিং করেন। সেখানে অধ্যাদেশের আলোকে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষা উপদেষ্টা আমাদের প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করবেন। সে সাপেক্ষে আন্তঃ মন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজন করে সবকিছু চূড়ান্ত করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রকে সম্মানের সাথে জানিয়ে রাখতে চাই, অধ্যাদেশের কোনো অংশ যদি শিক্ষার্থীদের স্বার্থের বাহিরে যায়, তাহলে সেটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। যদি এমন কোন কিছু হয় তবে আমরা ভেবে নিব, ষড়যন্ত্রকারী শিক্ষা সিন্ডিকেট প্রেসক্রিপশনে সেটি হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থীরা সেটি প্রতিহত করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। শিক্ষা আর সিন্ডিকেট একসাথে চলে না।’
এ ছাড়াও ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে অধ্যাদেশ না দেয়া হলে আবারও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমনও হতে পারে আমরা পুরো ঢাকা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করব।’ এমনকি যমুনার অভিমুখে ও সচিবালয়ের অভিমুখ কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এদিকে, ইতোমধ্যে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে রাজধানীর সাত সরকারি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে নতুন একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার। গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত ধারণা, অসম্পূর্ণ তথ্য বা গুজবের ভিত্তিতে বিভ্রান্তি কিংবা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান শিক্ষা জীবন যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি সাত কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ এবং সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।
সকাল নিউজ/এসএফ

