তেল যেন এখন সোনার হরিণ। ৩০০ টাকার পেট্রোল পেতে গতকাল গভীর রাত থেকেই মোটরসাইকেল চালকদের অপেক্ষা। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার গাড়ির ভিড় জমে যায়। তেলের জন্য এমন হাহাকার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে।

আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডের মেসার্স খান ব্রাদার্স পাম্পে সকাল আটটা থেকে তেল দেওয়া শুরু হয়ে চলে পৌনে চারটা পর্যন্ত। এ সময় আশপাশে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ ভিড় দেখা যায়।

অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও তেল পাননি। দুপুরের মধ্যে সাড়ে চার হাজার লিটার তেল শেষ হয়ে যায়। রোদের দাবদাহে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। পাম্পে ভিড় সামলাতে মোতায়েন ছিল পুলিশ।

খান ব্রাদার্স পাম্পের ট্যাগ অফিসার, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম বলেন, আজ সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল এসেছিল। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ চালককে তেল দেওয়া হয়েছে। তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে কিছু চালককে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, দৈনিক যে পরিমাণ তেলের চাহিদা রয়েছে, সরবরাহ পেলেও তা অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বিতরণ। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতেই হিমশিম অবস্থা। এভাবে তেল বিতরণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, গত চার সপ্তাহ ধরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার থাকায় এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। তারা তেল সংকট নিরসনে প্রশাসনের ভূমিকা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
পেট্রোল ও অকটেনের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ ভোক্তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহার করতে পারছেন না। ফলে অনেক যানবাহন পেট্রোল না নিয়েই ফিরে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা, যারা নিয়মিত মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, তারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকের পথের মধ্যে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে। পাম্পে একদিন কিছু সময়ের জন্য তেল পাওয়া গেলে আবার দুদিন বন্ধ থাকে।

মোটরসাইকেল চালক মোস্তাকুর রহমান আরমান বলেন, আমি ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে ৩০০ টাকার তেল পেয়েছি। গরমের মধ্যে অমানুষিক কষ্ট করতে হয়েছে আমাদের।

চালক নাইম ইসলাম বলেন, রাত চারটা থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সীমাহীন কষ্ট, এর মধ্যে না খেয়ে থাকতে হয়েছে। আর কতদিন এই সমস্যা থাকবে জানি না। দ্রুত সমাধান জরুরি।

চালক মোবারক হোসেন বলেন, কয়েক ঘণ্টা রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। এর আগেই তেল শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। মনের কষ্টে ফিরে আসতে হলো। তেল যেন এখন সোনার হরিণ।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ জানান, প্রতিদিন তেলের বিষয়ে নজরদারি চলছে। অবৈধভাবে তেল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছে সরকার।

সকাল নিউজ/এমএম

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version