যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তির আভাস মিলেছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, ফিরতে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও।
বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫.৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৩০ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম কমেছে প্রায় ১৬.৫ শতাংশ, যা এখন ৯৩.৮০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। যদিও এই পতনের পরও সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনো তুলনামূলক বেশি—ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এর কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়া বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এর ফলে শুধু তেল নয়, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের ওপর সম্ভাব্য বোমা হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন। শর্ত হিসেবে তিনি ইরানকে দ্রুত ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ হলেই তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা হবে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকা অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে জ্বালানি বাজারে আরও স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন এবং উভয় পক্ষের আস্থার ওপরই নির্ভর করছে এই স্বস্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে।


