আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ঘোড়া প্রতীক পেলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শিহাব আহমেদ। আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ প্রতীক বরাদ্দ পান।
এর আগে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার পর গত ১৪ জানুয়ারি প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন শিহাব আহমেদ। ওইদিন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন সংসদীয় আসন-১৬, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিহাব আহমেদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন।
শুনানি শেষে ইসির মিডিয়া সেন্টারে শিহাব আহমেদ মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী আমি শিহাব আহমেদ, শুধু আমার দুই উপজেলা হাতিবান্ধা পাটগ্রামই নয়, পুরো লালমনিরহাট জুড়ে একনামে আমাকে সবাই চিনে ‘‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’’ নামে। কারণ আমি ৩২ বছরের তাগড়া জোয়ান। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছি লালমনিরহাট-০১ আসনে হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম এলাকার মানুষের কল্যাণে।’
শিহাব আহমেদ বলেন, ‘দীর্ঘ আট বছর ধরে আমার এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সংগ্রাম অব্যাহত রয়েছে। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম নির্বাচনের আগে আমি প্রতিটি প্রতিশ্রুতি আমি বাস্তবায়ন করবো। আলহামদুলিল্লাহ, আমি প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি। আমি বলেছিলাম জনগণ যদি আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদে পাঠায় আমি লালমনিরহাট-০১ আসন থেকে দেশের ৩৪৯ টি এমপির মাঝে কাঁপন ধরিয়ে দেব।’
শিহাব আহমেদ বলেন, ‘আমি একজন প্রবাসী বাংলাদেশী, মাত্র ১৬ মাসে এই দেশকে ৩ কোটি ১০ লক্ষ টাকার রেমিটেন্স এনে দিয়েছি। একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা দেশকে ভালোবেসে এসেছিলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলাম, কিন্তু আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে আমাকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি আপিল করে অবশেষে আজ প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছি।’ এসময় তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করে সেজদা করেন।
লালমনিরহাটে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’’খ্যাত এ প্রার্থী বলেন, ‘বাংলাদেশের গতানুগতিক যে রাজনীতি, প্রতিহিংসার যে রাজনৈতিক ধারা, সেখান থেকে মানুষকে মুক্তি দিতেই আমি এসেছি। ইনশাল্লাহ, আমার জীবদ্দশায় একজন রেমিটেন্সযোদ্ধা হিসেবে, ৩২ বছরের একজন তাগড়া জোয়ান হিসেবে আমার দুই উপজেলা থেকে আমি বলেছি, একদফা একপ্রতিশ্রুতি- প্রতিটি টাকার হিসেব হবে; আমি উন্মুক্ত করে দেব। দুই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৫৫ ইঞ্চির একটি করে স্মার্ট টিভি লাগাবো। আমি সংসদ থেকে কতটাকা পেয়েছি সেখানে তার হিসেব উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আমি এমপি হয়ে একটাকা চুরি করে খাবো না, কাউকে খাইতেও দেব না। ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’’ হিসেবে দেশের ৩৪৯ টি এমপির আসনে কাঁপন ধরিয়ে দেব।’
শৈশবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে ওঠা শিহাব ২০১৬ সালে তুরস্কে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেখানে গড়ে তোলেন ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং বর্তমানে তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আফ্রিকা চাঁদ ও বাংলাদেশে তার মালিকানায় একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
৮ বছর ধরে সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। এ সময় তিনি দুই উপজেলার ২৫০০০ এর বেশি পরিবারে তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানির জন্য নলক‚প স্থাপন করে দিয়েছেন। দুই উপজেলার ১০০০ এর বেশি মসজিদ মাদ্রাসা এতিমখানা ও স্কুল কলেজে ওযুখানার ব্যবস্থা করেছেন। ১৫টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা করেছেন। এ ছাড়া দুই উপজেলার যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবার আগে তিনি সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন।
হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে এস,এস,সি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষাবৃত্তি। দুই উপজেলার ৮০ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন দুই উপজেলার শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে তিনি ৩ কোটি টাকা শিক্ষা সহায়তা দিবেন আগামী ১০ বছরে।
দুই উপজেলার শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে প্রতিষ্টা করেছেন “শিহাব আহমেদ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট”। এ ছাড়াও স্বাস্থ্যখাতে অবদান রাখতে তিনি তুরস্ক ও জাপানের আদলে দুই উপজেলা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
সকাল নিউজ/এমএম


