পবিত্র রমজান শুরুর পর থেকে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বাস কাউন্টারগুলোতে চরম মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। টিকিট বিক্রি কমে যাওয়ায় বাস কাউন্টার ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। ফলে সংসার চালানো নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকালে হাতীবান্ধা উপজেলার বন্দরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একসময় যাত্রীদের ভিড়ে সরগরম থাকা বাস কাউন্টারগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। আগে যেখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রীদের আনাগোনায় ব্যস্ততা থাকত, সেখানে এখন দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও টিকিট বিক্রি হচ্ছে খুবই কম। যাত্রী না থাকায় অনেক বাস নির্ধারিত সময়েও প্রায় খালি অবস্থায় ছেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাতীবান্ধা বাসস্ট্যান্ডে মোট ২৪টি বাস কাউন্টার রয়েছে। এসব কাউন্টার থেকে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের টিকিট বিক্রি করা হয়। তবে রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় সব কাউন্টারেই যাত্রী কমে গেছে। ফলে টিকিট বিক্রির পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
কাউন্টার ম্যানেজাররা জানান, তাদের বেশিরভাগ আয় নির্ভর করে টিকিট বিক্রির ওপর। রমজানের আগে প্রতিদিন একটি কাউন্টার থেকে গড়ে ১০ থেকে ১২টি টিকিট বিক্রি হতো। কিন্তু এখন অনেক সময় সারাদিন বসে থেকেও এক থেকে দুইটির বেশি টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে অনেকেরই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাতীবান্ধা বাসস্ট্যান্ডের উত্তরবঙ্গ বাস কাউন্টারের ম্যানেজার শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত বলেন, ‘রমজানের আগে প্রতিদিন একটি কাউন্টার থেকে ১০ থেকে ১২টি টিকিট বিক্রি হতো। কিন্তু রমজান শুরু হওয়ার পর থেকে যাত্রী অনেক কমে গেছে। এখন সারাদিন বসে থেকেও অনেক সময় মাত্র এক বা দুইটি টিকিট বিক্রি করা যায়। এতে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’
শাহ আলী বাস কাউন্টারের ম্যানেজার ইউসুব আলী বলেন, ‘তাদের আয়ের প্রধান উৎস টিকিট বিক্রি। রমজান শুরু হওয়ার পর যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই আয়ও কমে গেছে। আগে প্রতিদিন ভালো টিকিট বিক্রি হতো, এখন তা না হওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।’
বাস কাউন্টার ম্যানেজারদের সংগঠনের সভাপতি সাদেকুল ইসলাম রানা বলেন, ‘রমজানের প্রথম রোজা থেকে প্রায় প্রতিদিনই এক বা দুইটি করে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এত কম বিক্রি দিয়ে কাউন্টার চালানো এবং সংসার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক সময় বাস চালানোর পেছনে যে খরচ হয়, টিকিট বিক্রি করেও সেই খরচ ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে কর্মচারীদের বেতন ও বোনাস দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও এখন দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।’
সকাল নিউজ/এসএফ



