যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দমাতে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মধ্যপ্রচ্যের বিভিন্ন দেশে বিকশেষ করে মার্কিন ঘাটিগুলোতে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
যদিও তেহরানের হামলায় উপসাগরজুড়ে যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে তা প্রশমিত করতেই পেজেশকিয়ান ক্ষমা চেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে, তবে তার এ কাণ্ড দেশের ভেতরের কট্টরপন্থিদের রীতিমতো চটিয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধ চলাকালে আরব বিশ্বের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দুঃখ প্রকাশের ঘটনা অবাক করেছে বিশ্লেষকদের অনেককেই। ইরানের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার সকালে দেওয়া এক ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমন দুঃখ প্রকাশের ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। বিশেষ করে যুদ্ধ চলার সময়। এমন পরিস্থিতিতে নেতারা সাধারণত হয় ‘অনুশোচনা’ প্রকাশ করেন কিংবা ‘দায়িত্ব নেওয়া’ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখেন। সেই দিক থেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ব্যতিক্রমী কাজ করেছেন।
ভাষণে মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে হামলার ঘটনায় সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানের পদক্ষেপে প্রভাব পড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইছি। প্রতিবেশী দেশগুলোয় আক্রমণ চালানোর কোনো ইচ্ছা ইরানের নেই।’
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে আশপাশের দেশগুলোকে না জড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে পেজেশকিয়ান এমনটাই বলেন। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে ট্রাম্পের আহ্বানকে ‘স্বপ্ন’ বলেও উড়িয়ে দেন তিনি।
ইরানি এ প্রেসিডেন্ট জানান, তাদের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ আশপাশের দেশগুলোতে হামলা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে, যতক্ষণ না তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের দিকে হামলা হয়। তার এ মন্তব্য ইরানের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়; পরে তড়িঘড়ি পেজেশকিয়ানের কার্যালয় জানায়, মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে হামলা হলে ইরানের সামরিক বাহিনী কঠোর জবাব দেবে।
এরপর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ আলি লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, যুদ্ধ কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
এ প্রসঙ্গে রয়টার্স মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য চাইলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
সকাল নিউজ/এসএফ

