ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে গত ২৫ জানুয়ারি পারফর্ম করার কথা ছিল ওপার বাংলার নায়িকা মিমি চক্রবর্তীর। কিন্তু স্টেজে দেরিতে ওঠায় আয়োজকেরা তার ওপর চড়াও হলে এ নিয়ে আয়োজকদের ওপর হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন এ নায়িকা।
সে ঘটনার জেরে মানহানি-সহ ক্ষতিপূরণের দাবি এবং অনুষ্ঠানের টাকা ফেরত চেয়ে মিমিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন আয়োজক তনয় শাস্ত্রী। এবার এ ঘটনার জেরে মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানের আয়োজক তনয় শাস্ত্রীর পক্ষে তার আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় মিমির কাছ থেকে ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ এবং অগ্রিম নেওয়া ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি ফেরত চাওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৫ জানুয়ারি উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার কথা ছিল মিমি চক্রবর্তীর। আয়োজকদের দাবি, রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও মিমি মঞ্চে ওঠেন রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মাইক বাজানোর অনুমতি থাকায় তাকে দ্রুত অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা হয়।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজকদের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় হেনস্তা করার অভিযোগ তোলেন। এই মিথ্যা অপবাদের কারণে আয়োজক তনয় শাস্ত্রীকে পুলিশি হেফাজতে থাকতে হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, মিমি চক্রবর্তী এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা ২ কোটি রুপির মানহানি মামলা করেছেন। তার দাবি, তিনি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছেছিলেন কিন্তু সেখানে কোনো মেকআপ রুম ছিল না।
নিরাপত্তার অভাবে তিনি নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন এবং পরে মঞ্চে উঠলে তাকে মাত্র দুটি গান গেয়েই নেমে যেতে বলা হয়। এছাড়া আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাকে অশালীন আচরণের শিকার হতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
বর্তমানে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। তনয় শাস্ত্রীর আইনজীবীর দাবি, সেদিন ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকা সত্ত্বেও মিমির সঙ্গে কোনো অশালীন আচরণ হয়নি, যার প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে রয়েছে।
সকাল নিউজ/এসএফ

