কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীর কেটে অবাধে মাটির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে মাটি ব্যবসায়ীরা। উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের পুটিমারী ফকিরেরভিটা এলাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যাক্তি কাউকে তোয়াক্কা না করে নদী তীর থেকে অবৈধভাবে এসব মাটি কেটে বিক্রি করছে।
ফলে নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ওইসব এলাকা সরাসরি নদীতে পরিণত হয়ে যাবে। এতে হুমকীর মুখে পড়েছে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্প,বিভিন্ন স্থাপনা ও নদী তীরবর্তি জনপদ এবং আবাদী জমি। এলাকাবাসী বার বার নিষেধ করলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাটি কাটতে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে পুটিমারী ফকিরেরভিটা গ্রামের মানুষ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন গেলে, উপজেলার পুটিমারী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের ভিতরে ফকিরেরভিটা এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের সামনে নদী ঘেষে ২টি জায়গায় তীর কেটে ট্রলিতে মাটি নিয়ে যাচ্ছে।ট্রলিতে মাটি কাটার ছবি উঠাতে গেলে মুহুর্তের মাঝে ১৫/১৬টি গাড়ী মাটি না নিয়েই সটকে পড়ে। এভাবে মাটি কাটা অব্যাহত থাকায় নদীর তীর সংলগ্ন এলাকাসমুহ নদীর পানির সমান হয়ে যাচ্ছে।
এতে সামান্য পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে এসব জমি নদীর সাথে মিশে গোটা এলাকা নদীতে পরিনত হবে মর্মে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এসময় একাধিক ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসা করেও তাদের নাম কিংবা ব্যবসায়িদের কোন তথ্য জানা যায়নি। মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের সম্পর্কে এলাকাবাসী মুখ খোলার সাহস পায়না বলে জানা গেছে।
রফিকুল ইসলাম নামে এক ট্রলির মালিক মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার গাড়ী এবং জমি দুটোই রয়েছে। সামান্য মাটি তুলে কাজে লাগাচ্ছি, আমি কোন ব্যবসায়ী নই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক এলাকাবাসী জানায় নদীর এই তীরটি তাদের গ্রামের প্রটেকশন হিসাবে কাজ করছে, এভাবে তীর থেকে মাটি কেটে নিলে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পসহ সামনের গ্রামগুলি নদীতে ভেঙ্গে যাবে। ফলে নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারনসহ হুমকীর মুখে রয়েছে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্রের ডানতীর রক্ষা প্রকল্প,বিভিন্ন স্থাপনাসহ নদী তীরবর্তি জনপদ ও সরকার ঘোষিত নৌ-বন্দর পুনঃস্থাপনের পরিকল্পনা।
তারা আরও জানান, জমির মালিকদেরও দোষ রয়েছে। তারা সামান্য টাকার জন্য মাটি ব্যবসায়ীদের নিকট যে পরিমান মাটি বিক্রি করেন, ব্যবসায়ীরা তার দ্বিগুন/তিনগুন মাটি কেটে নিয়ে যায়। এলাকাবাসী বার বার নিষেধ করলেও মাটি ব্যবসায়ীরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাটি কাটতে থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে পুটিমারী ফকিরেরভিটা গ্রামের মানুষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, ‘ওই এলাকা থেকে মাটি কাটা রোধে কয়েকবার অভিযান চালিয়েছি। অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করছি।’
সকাল নিউজ/এসএফ

