লাখো মানুষের অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা আর গভীর শ্রদ্ধায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা। এ ছাড়া সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় দেশি-বিদেশি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।
পাশাপাশি বিএনপির সর্বস্তরের নেতা -কর্মী, সমর্থক-শুভাকাঙ্খী ছাড়াও জানাজায় অংশ নিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।
দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই জানাজায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আশপাশের সড়কগুলোতেও দেখা দেয় জনস্রোত। দূর-দূরন্ত থেকে পায়ে হেটে ছুটে আসা লাখো মানুষের ঢল নামে জানাজাস্থলে। যা স্মরণকালের বৃহত্তর জানাজার রুপ নেয়। মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক মহাসমুদ্রে অবতীর্ণ হয়।
জানাজার নামাজ পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। দুপুর ২টায় জানাজা শুরুর সময় নির্ধারিত থাকলেও ভোর থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউ ও এর আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অগণিত মানুষ প্রিয় নেত্রীকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে রাজধানীজুড়ে জনস্রোত তৈরি করে।
জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আজ কৃতজ্ঞ জাতি তার শেষ বিদায়বেলায় সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, আজকের এই মহাসমুদ্র তারই প্রমাণ।
জানাজার পূর্বে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়ার জেষ্ঠপুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জানাজা উপলক্ষ্যে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জানাজা শেষে এখন মরদেহ শেরেবাংলা নগরে নেওয়া হচ্ছে। বিকেল সাড়ে ৩টায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
এর আগে বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে ছেলে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে ফ্রিজার ভ্যানটি যাত্রা শুরু করে। এবং বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যানটি পৌঁছে।
তার আগে সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মরদেহটি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বের করে নেওয়া হয় গুলশানে। শুরুতে নিজের দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজায়’ নেওয়ার কথা থাকলেও গাড়িটি তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বিদায়ে সরকার দেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে সমগ্র দেশ এখন শোকাতুর।
সকাল নিউজ/এসএফ

