রাজধানীর মিরপুরসহ সারাদেশে চাঁদাবাজির সমালোচনা করে তা সম্পূর্ণ বন্ধ ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ট্যাক্সের বাইরেও কিন্তু বেসরকারি একটা ট্যাক্স আছে। প্রত্যেকটা মুদির দোকানে, রাস্তাঘাটে, হকারের কাছে, এমনকি যে রাস্তার ধারে বসে, ভাইবোন ভিক্ষা করে তার কাছ থেকেও ট্যাক্স নেওয়া হয়। ওই ট্যাক্স নামের চাঁদাবাজি আর চলবে না। দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি কাউকে করতে দিবও না। ইনসাফ সবার জন্য। টাকা মূল্যে ইনসাফ আর বিক্রি হবে না।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে মিরপুর-১০ এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে বলেন, ওই রকম কার্ডের কোনো ওয়াদা আমরা দিচ্ছি না।
২ হাজার টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু কি সমাধান হবে, এমন প্রশ্ন তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুই হাজারের কার্ডে আবার এক হাজারে ভাগ বসবে কি না বলছেন এনসিপির আহŸায়ক নাহিদ। খাজনা আগে তারপর অন্যটা? দুই হাজারে এক হাজারের খাজনা আগে আমাকে দিয়ে দাও! এমন কাল্পনিক কিছু চরিত্র একে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, সরকারের হাতে যাবে, বেকারের হাতে নয়— এমন চিত্র কি আমরা দেখিনি?
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বড় ভারী। এই প্রতীক ইনসাফের। আর সমাজের সব ধরনের বৈষম্য ও দুঃশাসনের কারণ ইনসাফ না থাকা। ইনসাফ যদি থাকত, তাহলে সমাজে দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও ব্যাংক ডাকাতরা নিরাপদে জনগণের সম্পত্তি লুটপাট করে দেশ থেকে পালানোর সুযোগ পেত না; দেশে দেশে বেগমপাড়া তৈরি করতে পারত না। বাংলাদেশের বুকে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে পারত না। কারণ এই কালো টাকা সন্ত্রাসের পেছনেও ব্যয় হয় আরও কালো টাকা বানানোর জন্য।
ঢাকা-১৫ আসনের এ সংসদ সদস্য প্রার্থী বলেন, যারা নিজেদের দলের লোকদের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মামলাবাজি, সন্ত্রাস এবং পাথর মেরে বা গাড়ি চাপা দিয়ে লোক হত্যার কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে, তারাই আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবে। আর যারা এগুলো পারবে না, তারা যত রঙিন স্বপ্নই জাতিকে দেখাক, জাতির তাদের মতলব বুঝতে মোটেই অসুবিধা হবে না।
তিনি বলেন, দ্বিতীয়ত, জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য। সবার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য মাঠে নেমেছে ১০ দলীয় সমঝোতার জোট। এই ১০ দলকে বিজয়ী করার অর্থ হচ্ছে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট; এর অর্থ হচ্ছে চাঁদাবাজ, দখলদার, ফ্যাসিবাদ, ব্যাংক ডাকাত এবং যারা মা-বোনদের ইজ্জতের ওপর হাত দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ‘হ্যাঁ’ ভোট। সব মিলিয়ে একটা ‘হ্যাঁ’ ভোট হবে।
এ সময় তিনি ১০ দলীয় জোটের অন্যতম সঙ্গী এনসিপির আহŸায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। এরপর একে একে তিনি নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী কর্নেল(অব.) আব্দুল বাতেন, ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান, ঢাকা-১৪ আসনের ১০ দলীয় জোটের জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
সকাল নিউজ/এমএম

