‘ফ্যামিলি কার্ড উন্নয়নের সিঁড়ি, স্বাবলম্বী হবে এবার প্রতিটি বাড়ি’, ‘পরিবারের সুরক্ষা ও আত্মমর্যাদা ফ্যামিলি কার্ডেই মূল ভরসা’-এই স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, এমপি।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় লামা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। প্রথম ধাপে বান্দরবানের লামায় ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের মাঝে এ বিতরণ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, “ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যে অঙ্গীকার ছিল, তার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ প্রেক্ষিতে হতদরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলো বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।”
এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ২ নং ওয়ার্ড ১ হাজার ৯৭টি পরিবার কার্ড পায়। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে পাবেন আড়াই হাজার টাকা। ভাতা দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। এতে তারা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।
প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের সেবা করতে এসেছি। সুতরাং এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে দল কিংবা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ করা হয়নি। স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।’
বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনির সভাপতিত্বে ও সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাসেদুল হকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ৩০০ নং আসন বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পুলিশ সুপার আবদুর রহমান, সমাজসেবা দপ্তরের উপ-পরিচালক মিল্টন মুহুরী, নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন ও পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন বিশেষ অতিথি ছিলেন।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী ও আলীকদম উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন উপকারভোগী হ্লাচিং মার্মা ও ফাতেমা বেগম।
সকাল নিউজ/এসএফ



