প্রতি বছর আগের পঞ্জিকাবর্ষের ক্রিকেটে সেরা ব্যক্তিগত ব্যাটিং ও বোলিং পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার দিয়ে থাকে ক্রিকেট ভিত্তিক পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো।
সাবেক ক্রিকেটার, ভাষ্যকার এবং ইএসপিএনক্রিকইনফোর জ্যেষ্ঠ লেখকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বাধীন জুরি বোর্ড ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করে। আগের বিজয়ীদের মধ্যে ছিলেন- ডেল স্টেইন, জসপ্রিত বুমরাহ, মেগ ল্যানিং, হারমানপ্রীত কৌর, বিরাট কোহলি, অ্যালিসা হিলি, বেন স্টোকস, সূর্যকুমার যাদব, ট্রাভিস হেড, শহীদ আফ্রিদি ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো তারকারা।
এ বছর সারা বিশ্বের টি-টোয়েন্টি লিগ পারফরম্যান্সের মনোনয়নে ওপরের দিকে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। এই ডানহাতি পেসার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৭ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন।
এই ম্যাচে তাসকিনের উত্তেজনাপূর্ণ সিম বোলিং তাকে বিপিএলের ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগার এনে দিয়েছে এবং টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি তৃতীয় সেরা। তিনি দ্বিতীয় বলে তারকা ব্যাটসম্যান লিটন দাসকে ডাকে আউট করে শুরু করেন এবং এরপর আরও ছয় উইকেট নেন।
৪ ওভার বোলিং করে ১৯ রান খরাচয় ৭ উইকেট নিয়েছেন তাসকিন। বিপিএল ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড এটা। ২০২০ সালে ১৪ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। এতোদিন সেটাই ছিল বিপিএলের সেরা বোলিং রেডর্ক।
দিনের প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে উইকেট হারায় ঢাকা। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস। তাসকিনের অতিরিক্ত বাউন্সার সামলাতে ব্যর্থ হয়ে খোঁচা মারেন লিটন। প্রথম স্লিপে বল তালুবন্দি করেন ইয়াসির আলী রাব্বি।
নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবারো উইকেট পান তাসকিন। অফ স্টাম্পের একটু দূরে টার্ন করা বলে পরাস্ত হন তানজিদ। ৯ রান করা এই ওপেনারের ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটের পেছনে চলে যায়। বল গ্লাভসবন্দি করেন উইকেটরক্ষক আকবর আলী। দুই ওপেনারকে দ্রুত হারালেও পাওয়ার প্লেতে রানের চাকা সচল রাখে ঢাকা। তৃতীয় উইকেটে স্টিফেন এস্কিনাজি ও শাহাদাত হোসেন দীপু ৭৯ রানের জুটি গড়েন। ২৯ বলে ৪৬ রান করা এস্কিনাজিকে বোল্ড করেন হাসান মুরাদ।
ব্যক্তিগত ১৬ রানে থাকা অবস্থায় একবার জীবন পান লঙ্কান অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা। ৯ বলে ২১ রান করে সেই বিদায় নেন তিনি। মোহর শেখের স্লোয়ার বাউন্ডারি পার করতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। ফলে দিপুর সঙ্গে তার ৩৬ রানের জুটি ভাঙে। এরপর ফিফটি হাঁকান দীপু।
ঢাকায় শৈত্যপ্রবাহের দিনে এরপর আগুন ঝরান তাসকিন। ১৭তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে আরো দুই উইকেট নেন এই পেসার। ৪১ বলে ৫০ রান করে বাউন্ডারি লাইনে রায়ান বার্লকে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন দীপু। সেই ওভারের পঞ্চম বলে চতুরাঙ্গা ডি সিলভাকে বিদায় করেন তাসকিন।
তার শর্ট লেংথ ডেলিভারিতে অফ সাইডে হাঁকাতে গিয়ে উইকেটরক্ষক আকবরের তালুবন্দী হন এই শ্রীলঙ্কান। ম্যাচের শেষ ওভারে আরও তিন উইকেট নেন তাসকিন। ৯ বলে ১৩ রান করা আলাউদ্দিন বাবু, শূন্য রানে থাকা মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ এবং শুভম রাঞ্জানেকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো সাত উইকেট নেন তিনি।
সকাল নিউজ/এসএফ

