আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
কানিজ মওলা আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর গত শনিবার থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন বলে বঙ্গভবন সূত্র জানা গেছে।
নিয়ম অনুসারে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপির সংসদীয় বোর্ডের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
এরপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন এবং তাকে জানাবেন যে সংসদে দলটির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন।
রাষ্ট্রপতি সংসদ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তীতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পাঠ করাবেন, এরপর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়। সে মোতাবেক আজ সকালে প্রথমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল বিএনপির নির্বাচিত এমপিরা শপথ নেন। এরপর শপথ নেন জামায়াত জোটের এমপিরা।
তাদের সঙ্গে শপথ নেন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ বিএনপির বিদ্রোহী সাতজন সংসদ সদস্য। সাথে শপথ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তিনি যথাসময়ে এসে পৌঁছতে না পারায় বিএনপির এমপিদের সঙ্গে শপথ নিতে পারেননি। একই সঙ্গে শপথ নেন ইসলামী আন্দোলন থেকে নির্বাচিত একমাত্র এমপি মো. ওয়ালীউল্লাহও।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।
সকাল নিউজ/এসএফ

