পবিত্র শবে বরাতের সরকারি ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধানতম পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। সকাল থেকেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টে দেখা যায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো পর্যটক সমুদ্রস্নান করে আনন্দে মেতে উঠেছেন। কেউ কিটকট চেয়ারে বসে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করছেন, কেউ ঘোড়ায় চড়ে সৈকত ঘুরছেন। আবার অনেকেই বীচ বাইক ও জেটস্কি রাইড নিয়ে সমুদ্রের বিশালতা উপভোগ করছেন।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন লাইফগার্ড সদস্যরা। পানিতে নেমে যেন কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারি।
সিনিয়র লাইফগার্ড রশীদ আহমেদ সকাল নিউজ-কে জানান, সরকারি ছুটি থাকায় অন্যান্য দিনের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী এই তিনটি পয়েন্টে লাইফগার্ডরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেল এবং তাদের নিয়োজিত বীচকর্মীরা।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান ও অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতে আগত প্রতিটি পর্যটকই আমাদের অতিথি। তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’
শুধু প্রধান সমুদ্র সৈকতই নয়, কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টের পাশাপাশি হিমছড়ি, ইনানী ও পাটুয়ারটেক সৈকতেও নেমেছে পর্যটকের ঢল। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভে চাঁদের গাড়িতে করে পর্যটকরা পাহাড় ও সমুদ্রের অপূর্ব মেলবন্ধন উপভোগ করতে ছুটে যাচ্ছেন।
শবে বরাতের ছুটিকে কেন্দ্র করে এমন পর্যটক সমাগমে কক্সবাজারজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যা পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মাঝেও ফিরিয়ে এনেছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্যতা।
সকাল নিউজ/এসএফ


