আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ- ২ ( কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে নানামুখি প্রচার-প্রচারণায় বিরামহীন সময় কাটাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা ৷ প্রচারণার নির্ধরিত সময় থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। সবার কণ্ঠে এখন পরিবর্তনের অঙ্গীকার আর নিত্যনতুন প্রতিশ্রুতি।

এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন৷ এরমধ্যে একজনের সংসদ সদস্য হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ বাকি সবাই নতুন৷ প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে তিনজন প্রার্থী প্রথম থেকেই দৃশ্যমান জোর প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় রয়েছেন৷ অন্যরাও নিজেদের মতো করে প্রচার চালিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন৷

এখন পর্যন্ত প্রচার প্রচারণা ও আলোচনায় এগিয়ে থাকা তিন প্রার্থী হলেন- বিএনপি মনোনীত মো: জালাল উদ্দীন (ধানের শীষ), শফিকুল ইসলাম মোড়ল- জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হয়ে হাতপাখা প্রতীকে লড়ছেন মাওলানা আবুল বাশার রেজওয়ান।

এ ছাড়াও অন্য প্রার্থীদের মধ্যে মাঠে রয়েছে মো: শফিকুল ইসলাম- গণ অধিকার পরিষদ (ট্রাক), আনিসুজ্জামান খোকন- স্বতন্ত্র (ময়ূর), নুরুদ্দীন আহম্মেদ- স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল), বিল্লাল হোসেন- বিএনএফ (টেলিভিশন) ও আফজাল হোসেন ভূইয়া- জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)।

এরমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়৷ অন্য প্রার্থীদের অতীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা নেই৷

এই আসনে বিএনপির দলীয় গ্রুপিং না থাকায় ঐকবদ্ধ দলীয় সমর্থন পাচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী। প্রতিদিন দুই উপজেলায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা গণসংযোগ ও প্রচার মিছিলে অংশ নিচ্ছেন৷ পুরো নির্বাচনী এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী ৷ এ ছাড়াও দলের কঠিন সময়ে ত্যাগী নেতা হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রার্থী জালাল উদ্দীনের ক্লিন ইমেজ থাকায় দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা তার পক্ষে জনসংযোগে অংশ নিচ্ছেন৷

জামায়াত-এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোট প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনের আলাদা প্রার্থী থাকায় বিভক্তি ভোটের হিসেবে বাড়তি সুবিধা পাবেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী মো: জালাল উদ্দীন বলেন, ‘আমি কোনকিছু হাল্কাভাবে দেখতে চাচ্ছি না৷ নির্বাচন কঠিন হবে ধরে নিয়েই আমি দিনরাত ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। প্রতিপক্ষের ভোটের বিভক্তি নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই ‘
তিনি বলেন, ‘আমার সব প্রতিপক্ষদের শক্তিশালী মনে করেই আমি মাঠে কাজ করে যাচ্ছি৷ আমার নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মানুষের উন্নয়নের জন্য অনেক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন ৷ ইনশাআল্লাহ জনগণ পরিবর্তন ও উন্নয়নের পক্ষে থাকবে।’

এদিকে জামায়াত-এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত শফিকুল ইসলাম মোড়ল বিএনপির সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ জোট সাথী এনসিপি ও মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কার পক্ষে সমর্থন দিয়ে সাথে রয়েছে।

এ ছাড়াও প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বিগত সরকারের সময়ে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান থাকায় ভোটারদের মধ্যে তার বাড়তি পরিচিতি, আলাদা-ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর সাথে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতা হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ৷ তার পক্ষে প্রচারণা অনেকটা চোখে পড়ার মতো৷ প্রতিদিন গণসংযোগ ও পথসভায় তিনি ও দলের লোকজন অংশ নিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন।

জালালপুর ইউনিয়নে পথসভায় অংশ নিয়ে জামায়াতের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মোড়ল বলেন, ‘আমি বিজয়ী হলে ব্যাপক পরিবর্তন আনবো। সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করবো আগে৷ আমাদের মাধ্যমে কোন জুলুম হবে না৷ ৫ আগষ্টের পর হিন্দু সমাজের লোকজনকে নিরাপত্তা দিয়েছি রাত জেগে। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে এখন।’

শেষ মুহুর্তে ধর্মীয় আদর্শগত মতভেদের কারণ দেখিয়ে ‘১০ দলীয় রাজনৈতিক সমঝোতা’ থেকে বেরিয়ে একক নির্বাচনের ঘোষণা দেয় চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন। ফলে এই আসনে ইসলামী দলের মধ্যে হাতপাখা মার্কা নিয়ে একক নির্বাচন করছে প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ান৷ তিনি ঢাকায় করোনা মহামারীর সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাশ দাফন ও ফেনীর বন্যায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আলোচনায় আসেন। পরে ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় এসে ইসলামী আন্দোলনে যোগদান করলে তাকে প্রার্থী করা হয়৷

প্রার্থী নতুন হলেও দুই উপজেলায় দলটির সক্রিয় সাংগঠনিক কার্যক্রম রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে৷ এর মধ্যে বিগত সময়ে বড় দুই দলের সাথে পাল্লা দিয়ে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় এই আসনে তাদের দলীয় মার্কার পরিচিতি রয়েছে আগে থেকেই। প্রার্থীর পাশাপাশি দলটির কর্মীরা প্রতিদিন ছোট ছোট গ্রুপ গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ পাশাপাশি তিনি নিজেদের আদর্শের সাথে মিল রয়েছে এমন ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়৷

প্রার্থী মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ান বলেন, ‘ইসলামী একক দল হিসেবে আমরা নির্বাচন করছি। আমরা সমাজে ইসলামের আইন ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতি করি ৷ নীতি আদর্শের প্রশ্নে কখনো আপোষ করিনি। ইসলাম, দেশ, জনগণ ছাড়া আমাদের অন্য স্বার্থ নাই। সচেতন মানুষ আমাদের সমর্থন দিচ্ছে ব্যাপক৷ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলমান রয়েছে। প্রতিদিন দাওয়াতি কাজ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি৷’

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩২ হাজার ৫১৬ জন। এখানে ১৭০টি ভোট কেন্দ্র ও ৯৮৮টি ভোট কক্ষ রয়েছে, যার মধ্যে ৫১টি অস্থায়ী।

 

সকাল নিউজ/এসএফ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version