নির্বাচনে পূর্ব নির্ধারিত হেভিওয়েটের যে চিন্তা বা কনসেপ্ট এটা আর এই বাংলাদেশে টিকবে না জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঅঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘বিভিন্ন বড় বড় রাজনৈতিক দলের বড় বড় সো কল্ড হেভিওয়েট নেতা যারা ছিল এবার তাদের আপনারা ভূমিধস পতন দেখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ রবিবার (২৫ জানুয়ারি) চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। পঞ্চগড়-১ আসনের অমরখানা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের কাছে ছুটে গিয়ে গণসংযোগ ও উঠান বৈধক করেন। একই সাথে ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়ে জোটের পক্ষে শাপলা কলিতে ভোট চান সারজিস। এসময় জোটের নেতাকর্মী ও ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন।
১১ দলীয় জোট থেকে শাপলা কলির এ প্রার্থী বলেন, ‘বিপ্লব ২০২৪ এর অগাস্ট থেকে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। এবং আমরা মানুষের মধ্যে একটা পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। মানুষ শুধু ১২ তারিখের অপেক্ষায় আছে। প্রত্যেকটা মানুষ জুলুমের বিরুদ্ধে ভোট দিবে ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেকটা মানুষ চাঁদাবাজি দখলদারিত্ব এবং হুমকি- ধামকি ক্ষমতার অপব্যবহার, মামলা বাণিজ্য এসব যারা করেছে এবার তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিবে।’
সারজিস বলেন, ‘আপনারা দেখবেন এক বছর তিন মাস ধরে যারা জুলুম করেছে তারা এখন ফেরেশতা সাজার চেষ্টা করছে। মানুষ এ ধরনের গিরগিটি চরিত্রের মানুষদের ভালো করে চিনে রাখবে। কিন্তু আপনারা ভোটে দেখতে পারবেন মানুষ অনেকের কথায় কান দিবে কিন্তু ভোট দেয়ার সময় জায়গামতো ভোট দিবে ইনশাআল্লাহ। শুধু পঞ্চগড় এক আসনে নয় পুরো বাংলাদেশে ইনসাফের পক্ষে, ভালোর পক্ষে, সাধারণ মানুষের পক্ষে, ১০ দলীয় জোটের যে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ এই ১০ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিজয়ী হয়ে আগামীতে সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।’
হুমকি ধামকির অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা একটা কথা বলে দিতে চাই। এখনো আমার আসনে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী স্থানীয় পর্যায়ের অনেক মানুষকে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আজকে সকালে এসে একজন আমাকে অভিযোগ করেছে জামায়াতের একজন কর্মী। তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে- জামায়াত তো ক্ষমতায় আসবে না, জামায়াত বা ১১ দলের প্রার্থী এখানে জিতবে না। যদি তারা ধানের শীষে ভোট না দেয় তবে নির্বাচনের পরে দেখে নিবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই- এই ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে যারা ক্ষমতায় আসতে চায়, তাদের পতন শেখ হাসিনার চেয়েও ভয়ংকর খারাপভাবে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আগের ওই জায়গায় নাই, আমরা স্পষ্ট ভাবে একটা কথা বলি মানুষকে মানুষের মতো করে স্বাধীনভাবে আপনারা ভোট দিতে দেন। মানুষ ভোট দিয়ে মানুষ মানুষের সিদ্ধান্ত নেবে। যদি এই সিদ্ধান্তে আপনারা বাধা দেন যতটুকু সম্ভবনা ছিল- ততটুকু সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যাবে।’
২৪-এর এই জুলাই যোদ্ধা বলেন, ‘আপনাদেরকে এজন্য অনুরোধ করব একটা সুষ্ঠু স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সকল রাজনৈতিক দল সহযোগিতা করেন। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। ইনশাআল্লাহ জনগণ যেদিকে থাকবে, আমরাও সেদিকে থাকবো এবং ইনশাল্লাহ জনগণকে সাথে নিয়ে আগামীর নির্বাচনে আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।’
সকাল নিউজ/এসএফ

