সাপ্তাহিক বা সরকারি কোনো ছুটি না থাকলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। হাজারো পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত এলাকা।

তবে সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায় সুগন্ধা পয়েন্টে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছেন। শিশুদের খেলাধুলা, বড়দের প্রাণখোলা গল্পগুজব আর ধীরে ধীরে মায়াবী রঙ বদলানো আকাশ, সব মিলিয়ে সৈকতপাড়ে তৈরি হয় এক মুগ্ধময় পরিবেশ। সূর্যাস্তের মুহূর্তটি এক অবাকচোখে উপভোগ করেন উৎসূক দর্শনার্থীরা।

গোধূলিরাঙ্গা সূর্যটা বিস্তৃর্ণ সোনালি আকাশে টিপ পড়ানোর বর্ণিল দৃশ্য উপভোগ করতে সমুদ্রপাড়ে দেখা দেয় জনসমুদ্র। অনেক দর্শনার্থী মোবাইল ফোনে সেই মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পর্যটকদের অনেকেই জানান, দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা ও ক্লান্তি ভুলে কিছুটা স্বস্তি পেতেই তারা ছুটে আসেন সমুদ্রের কাছে।

দর্শনার্থীদের এই ভিড়ে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কেউ বিক্রি করছেন নারিকেল পানি, কেউ রঙিন বেলুন, আবার কেউ পোড়া ভুট্টা। পাশাপাশি চটপটি ও ফুচকার দোকানগুলোতেও দেখা গেছে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে সি-বিচকর্মীদের সহকারী সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘কক্সবাজারে বেড়াতে আসা প্রতিটি পর্যটকের নিরাপত্তাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। প্রতিটি পর্যটন স্পট সার্বক্ষণিক আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। কোনো পর্যটক বিপদে পড়লে দ্রুত সহায়তা দেওয়াই আমাদের প্রথম দায়িত্ব। নির্ধারিত নিরাপদ সীমার মধ্যে থেকে নির্দেশনা মেনে চললে সবাই নিরাপদে সমুদ্র উপভোগ করতে পারবেন।’

‘সি সেইফ লাইফগার্ড’ প্রকল্পের ফিল্ড টিম ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ‘পর্যটক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পানিতে নামা পর্যটকদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে যেকোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।’

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের প্রধান, অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, ‘সমুদ্রসৈকতে আগত প্রতিটি পর্যটকই আমাদের অতিথি। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।’

সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে পর্যটকদের মাঝেও। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা পর্যটক রাশেদ মাহমুদ বলেন, ‘ছুটি না থাকলেও বাচ্চাদের নিয়ে একটু ঘুরতেই এখানে আসা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখে আমরা সন্তুষ্ট। লাইফগার্ড ও পুলিশ সবসময় চোখে পড়ছে।’

চট্টগ্রাম থেকে পরিবারসহ আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, ‘ভিড় অনেক হলেও পরিবেশ ভালো। বাচ্চাদের নিয়ে থাকলেও ভয় লাগছে না, কারণ নিরাপত্তা কর্মীরা সারাক্ষণ নজর রাখছেন।’

সব মিলিয়ে, ছুটির দিন না হলেও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যেন পরিণত হয়েছে এক আনন্দমেলায়। স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও পর্যটকদের উচ্ছ্বাসই প্রমাণ করে সমুদ্র সৈকতের প্রতি মানুষের ভালোবাসা কখনো কমে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক: শিহাব আহমেদ

Sokal News | সকাল নিউজ is a youth-led online news and media portal dedicated to delivering accurate, timely, and impactful news. Driven by a passion for truth and transparency, our mission is “সত্যের আলোয় প্রতিদিন” (“In the light of truth, every day”). Stay connected with us for trustworthy news coverage from a fresh perspective.

প্রধান কার্যালয়:
সকাল নিউজ, ই-১৭/৬, চায়না টাউন, ভিআইপি রোড, নয়াপল্টন, ঢাকা-১০০০

© 2026 সকাল নিউজ. সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত Shihab Group.
Exit mobile version