আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা খুব উদ্বিগ্ন। আমি মনে করি সরকারের এটা ব্যর্থতা। এখন পর্যন্ত তারা অস্ত্র উদ্ধারগুলো করতে পারেনি এবং এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিস্থিতি সে রকম একটা উন্নত হয়েছে বলে মনে হয় না। তবে আমি আশাবাদী নির্বাচন চলাকালীন সেটা ভালো অবস্থায় আসবে।’
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালোই মনে হচ্ছে। এ বছরের পরিস্থিতি বোঝা যাবে যখন প্রচারণা শুরু হবে। তার আগে বোঝা যাবে না। এখন সবাই যে যার সাংগঠনিক ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে। মনোনয়নের ব্যাপারগুলো গোছাচ্ছে। নির্বাচনের প্রকৃত অবস্থা আপনি বুঝতে পারবেন প্রচার শুরু হওয়ার পরে।’
এ সময় ক্রিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বহু আগে ক্রিকেট খেলতাম, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের মেম্বার ছিলাম। এখন ক্রিকেট খেলি না, রাজনীতি করি। তো এই ক্রিকেটের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি স্পষ্ট জড়িত আছে। আমাদের দেশের সম্মান আছে। আমাদের একজন ক্রিকেটারকে অপমান করা হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা মনে করি এটা আমাদের দেশকে অপমান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি মনে করি ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত। কিন্তু একই সঙ্গে আবার এটাও মনে করি ছোটখাটো বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমাধান করাই বেটার।’
বড় দুটি দল আওয়ামী লীগের ভোট টানতে চেষ্টা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বড় দুটি দল বলতে কোন দুটি দলকে বোঝাচ্ছেন? আমরা তো যতদিন দেখে আসছি বড় দল বলতে আওয়ামী লীগ, যেটা এখন নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। আমি মনে করি সবার বেলায় এটা প্রযোজ্য না। আমরা জনগণের কাজে যাচ্ছি, পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল বিএনপি। এদেশে যা কিছু ভালো সবকিছুই কিন্তু বিএনপির অর্জন এবং যে সংস্কার একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আসা, প্রেসিডেন্সি ফর্ম থেকে পার্লামেন্টের ফর্মে আসা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করা সবই বিএনপি করেছে। অতীতেও করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ৩১ দফার মধ্য দিয়ে আরও নিশ্চিত করেছে এবং এখন যে সংস্কারগুলো সংস্কার কমিশনার মাধ্যমে গৃহীত হয়েছে তার সবই বিএনপির কমিশনের মধ্যে আছে, একটা প্রস্তাবের মধ্যে আছে। বিএনপি অতীতে এককভাবে সরকার চালিয়েছে, সরকারে ছিল এবং সবচেয়ে ভালো কাজগুলো বিএনপি করতে সক্ষম হয়েছে।’
দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি অবশ্যই উত্তরাঞ্চলে আসবেন। উত্তরাঞ্চলে তার পিতৃভূমি বগুড়া, দিনাজপুর তার নানীর বাড়ি। রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পাশাপাশি এই অঞ্চলের অন্যান্য শহীদদের কবরেও তিনি শ্রদ্ধা জানাবেন।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রচার করা বিএনপির দায়িত্ব না। জনগণের দায়িত্ব ভোট দেওয়া। গণভোটে হ্যাঁ বা না আছে। জনগণ যা করবে তাই হবে। যারা সব সময় ফ্যাসিস্টদের ভয়ে থাকে, নিজেরা কোনো কাজ করে না, বিদেশে থেকে বড় বড় কথা বলে তাদের কাছে এগুলা বড় মনে হয়। আমাদের কাছে এগুলো বড় কিছু না। ফ্যাসিস্টকে আমরা তাড়াতেও জানি, মারতেও জানি, মার খেতেও জানি।’
তিস্তা ইস্যুতে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের কমিটমেন্ট আছে, আমরা তিস্তা, পদ্মা এবং অভিন্ন নদী যতগুলো আছে সবগুলোর ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে অলোচনা হবে এবং তাদের কাছ থেকে পানির হিস্যা আদায় করব। একটা দেশ আরেকটা দেশের সঙ্গে যে মিউচুয়াল এক্সপেক্ট, পারস্পারিক যে সম্মান সব রকমের দাবি আদায় করার চেষ্টা করব। আমরা যদি তাদের সঙ্গে সঠিকভাবে ডিপ্লোমেটিক আচরণ করতে পারি তাহলে তাদেরও বিরুপ আচরণ কমে যাবে।
সকাল নিউজ/এসএফ


