প্রশ্নফাঁস ও ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। এ সময় তারা নানান স্লোগানে পরীক্ষায় অনিয়ম, জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁস হয়েছে জানিয়ে বাতিলের দাবি জানান।
তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ‘অভিযোগের তদন্ত করা হবে’ বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘চাকরিপ্রার্থীরা আমাদের কাছে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এর আগেও দুটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু অনিয়ম না পাওয়া গেলে আমরা ফল প্রকাশ করবো।’
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের অপচেষ্টা যে হয়েছে, তা অস্বীকার করা যাবে না। তবে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবি এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যেসব প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে আমাদের প্রশ্নের কোনো মিল ছিল না। এতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রশ্নফাঁস হয়নি। তারপরও আমরা তদন্ত করবো।’
ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতি প্রসঙ্গে আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, ‘ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা হয়েছে। এটা কিন্তু প্রশ্নফাঁস না। এ ধরনের নকলের দায়ে ২০৭ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় মামলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়াও হয়েছে। এত বড় নিয়োগ পরীক্ষায় এমন কিছু ঘটনা প্রতারকচক্র ঘটাবে, এটা অস্বাভাবিক নয়।’
আন্দোলনকারীরা ৫ দফা দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দাবিগুলো হলো-
১. সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে।
২. সব চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে।
৩. স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সব পরীক্ষা নিতে হবে। একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।
৪. যেসব প্রতিষ্ঠানে বিগত সালে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
৫. প্রশ্নফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ফেসবুকে শেয়ারও করেন।
অন্যদিকে, এ পরীক্ষা ঘিরে সক্রিয় হয়ে ওঠে ‘ডিভাইস পার্টি’। তারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থ চুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসের সহায়তা দিয়েছেন। ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়া ২০৭ জন চাকরিপ্রার্থীকে হাতেনাতে ধরা হয়। তাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩ জন, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬ ও রংপুরে দুজন রয়েছেন।
সকাল নিউজ/এসএফ


