ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, অভিযুক্ত শুটার জিনাত এবং সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তৃতীয় ব্যক্তি এই দুজনের সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশে আহ্ছানউল্লা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ (৫০) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত চারজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের দুজনকে গুলি করার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। একজন ওই গলিতে এমনভাবে হাঁটাহাটি করছিল যে, প্রথমে তাকে সন্দেহই করা হয়নি। পরে আরেক স্থানের ফুটেজে দেখা যায়, জড়িত অপর তিনজনের সঙ্গে সে শলাপরামর্শ করছে। শনাক্ত হওয়া অপরজন গলির মুখে দাঁড়িয়েছিল।
মুছাব্বির হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এ সময় তারা বিচার চেয়ে নানারকম স্লোগান দেন। পরে তারা কারওয়ান বাজারে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন।
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা জানান, সিসি ক্যামেরার নতুন কিছু ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে হত্যায় সন্দেহভাজন চারজনের অনেকটা স্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে। এগুলোর মাধ্যমে তাদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনাক্ত সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। নিশ্চিত হওয়া যায়নি হত্যার কারণ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বসহ সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, হত্যার হুমকিতে ছিলেন তাঁর স্বামী। বিভিন্ন সময় মুছাব্বির বলেছিলেন, তাঁর অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যে কোনো সময় তাঁকে খুন করা হতে পারে। যদিও কারা সেই শত্রু, তা তিনি বলেননি।
সকাল নিউজ/এসএফ

