যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে গুলি করে সাংবাদিক রানা প্রতাপ বৈরাগীকে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে গুলি করা হলে ঘটনাস্থলে নিহত হন। এক দিনের ব্যবধানে যশোরে গুলি করে দ্বিতীয় হত্যার ঘটনা এটি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে তাকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা, যারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রানা প্রতাপের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জনাকীর্ণ বাজারে একজন সাংবাদিককে এভাবে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতকদের ধরতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান শুরু করে পুলিশের একাধিক টিম।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় রানা প্রতাপ কপালিয়া বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত রানা প্রতাপ পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রানা প্রতাপ নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘বিডি খবর’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কেশবপুর কাটাখালি মৎস্য আড়ৎ সমিতির সভাপতি ছিলেন। কপালিয়া বাজারে তার একটি বরফকল ছিল এবং তিনি ঘের ও মৎস্য ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন।
মনিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। পেশাগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো শত্রুতা থাকতে পারে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, এক দিনের ব্যবধানেই যশোরে দ্বিতীয় খুন এটি। ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুরে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মনিরামপুর উপজেলায় এবার লাশ পড়ল সাংবাদিকের।
সকাল নিউজ/এসএফ


