মোবাইল ফোন আমদানি সহজীকরণ ও কর যৌক্তিকীকরণের দাবি বাস্তবায়ন না করেই ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করার প্রতিবাদে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবন ঘেরাও ও ভাঙচুর করেছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ এমন আক্রমণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকালে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। বিকেল ৪টার দিকে এই ভাঙচুর শুরু হয়। বাইরে থেকে ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের দরজা-জানালার গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বেশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান বলছেন, ‘ওরা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়েছে। ইটপটকেল ছুঁড়ে মারছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছি।’
হামলায় বিটিআরসির মসজিদের কাঁচ ভেঙে যায়। এমন সময় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীরা নামাজ পড়ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিক কেউ আহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি।
বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা জানান, মোবাইল ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বিটিআরসি ভবনের আশপাশে অবস্থান করছেন। তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলন চলাকালীন সেনাবাহিনী অনেককেই গ্রেপ্তার করেছে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের সঠিক সংখ্যা তিনি জানাতে পারেননি।
এদিকে, এই হামলার ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিটিআরসি। সংস্থার উপ-পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খান বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়া বিবেচনায় নিয়ে আজ এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আজকের কেবিনেট সভায় ট্যাক্সও কমানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের অন্যান্য দাবিও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।’
তবে বিটিআরসির এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ তুলে শামীম মোল্লা বলেন, ‘ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হওয়া সভায় আন অফিসিয়াল ফোন বন্ধে সরকার তিন মাস সময় দিয়েছিল আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী। আগামী তিন মাসের মধ্যে আমদানিকৃত কোনো ফোনই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে না বলে জানানো হয়েছিল। তবে বিটিআরসি আজ হঠাৎ করেই এনইআরআই বাস্তবায়ন করেছে।’
সকাল নিউজ/এসএফ


