কুমিল্লার দেবীদ্বারে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণকারিদের হাতে মা ও ২৭ দিন বয়সী কোলের শিশু অপহরণ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর অনুমান ১২ টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অপহৃতা ভিক্টিম মা উদ্ধার হলেও ২৭ দিন বয়সী হাফসা আক্তারকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
অপহৃতা ভিক্টিম নারী আকলিমা আক্তার (২৮) দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের সোনা মিয়ার বাড়ির মো. মুখলেসুর রহমান-এর ছেলে অটোচালক মো. কামাল হোসেনের (৪২) স্ত্রী।
অপহৃতার ভাই শাহনুর আলম জানান, আমার বোন আকলিমা আক্তার (২৮) তার ২৭ দিন বয়সী শিশুকণ্যা আফসা আক্তারকে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। হাসপাতাল গেইটে পৌঁছানোর পর ২/৩ জন লোক এখানে ভালো ডাক্তার নেই বলে, অভিজ্ঞ ও ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ দেখাতে হলে আপনি আমাদের সাথে আসুন ডাক্তারের চেম্বারে। এসব বলে ফুসলে মা-মেয়েকে হাসপাতাল সংলগ্ন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে শয়তানের নিশ্বাস শুকিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ওইদিন বিকেলে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের বুড়িচং উপজেলাধীন ময়নামতি সংলগ্ন ‘সাবের বাজার এলাকায় সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় সেবা ‘৯৯৯’ নম্বর ফোনে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে দেবপুর পুলিশ ফাড়ির একদল পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশের উপস্থিতিতে আমরা সেখান থেকে গিয়ে বোনকে অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে এসে দেবীদ্বার হাসপাতালে চিকিৎসা দেই। কিন্তু এখন পর্যন্ত সাথে থাকা তার ২৭ দিন বয়সী শিশু কণ্যার কোন সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দেবীদ্বার থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ এখনো পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পায়নি।
শুক্রবার বিকেলে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাগর বড়ুয়া জানান, আমরা দেবীদ্বার হাসপাতালের সামনের এবং ময়নামতি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে দেখছি। এখনো তেমন কোনো ক্লু পাইনি, শিশু উদ্ধারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এবিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টি নাকি অপহরণকারীদের হাতে অপহৃত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভিক্টিম মহিলাকে গতকাল বিকেলে উদ্ধার করে দেবপুর পুলিশ ফাড়ি সন্ধ্যার পর থানায় এনে ভিক্টিমের স্বামী ও ভাইকে বুঝিয়ে দেন। তবে শিশু কণ্যাকে পাওয়া যায়নি। অপহরনের সময় মহিলার কাছে টাকা ও মোবাইল ফোনটি ছিল।’
তিনি বলেন, ‘কামাল ও আকলিমা দম্পতির এটাই প্রথম সন্তান এবং স্বামীর পূর্বের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। এটি স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই দ্বিতীয় সংসার। আমাদের দু’টি টিম শিশুটি উদ্ধার এবং ঘটনা অনুসন্ধানে মাঠে কাজ করছে। পথে পথে সিসিক্যামেরা ফুটেজও চেক করা হচ্ছে। তদন্তের পূর্বে সঠিক কিছু বলা যাবে না।’
সকাল নিউজ/এসএফ

