কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে পাঁচ শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্কের (রেবিস) ভ্যাকসিন না থাকায় আহতদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মাস্টার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জোহরের নামাজের কিছু আগে একটি পাগলা কুকুর জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান নাহিদের ছেলে নৌফল হাসানকে (৭)’ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে গুরুতর আহত করে।
স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে কুকুরটি পালানোর সময় প্রবাসী ইলিয়াছ হোসেনের ছেলে ইয়াছিন (৬) এবং একই এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে মোঃ জাবেদ হোসেনকে (৯)’কামড়ে আহত করে। জাবেদ তখন জোহরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাচ্ছিল। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এর আগে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় মরহুম মান্নান মিয়ার বাসার ভাড়াটিয়া আল আমিনের ছেলে আবির (৫)’কে একই কুকুর কামড়ে মারাত্মক আহত করে। পরে ধাওয়া খেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কোয়ার্টারে বসবাসকারী সিনিয়র নার্স তাহমিনা আক্তারের ছেলে সানি (৮)’কেও কামড়ে আহত করে।
এলাকাবাসীর জানায়, লালচে-হালকা ডোরাকাটা রঙের একটি কুকুর গত দু’দিন ধরে বেপরোয়া আচরণ করে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং সুযোগ পেলেই শিশুদের ওপর হামলা করছে। এখন পর্যন্ত অনেক শিশুকে আহত করেছে বলে জানিয়েছে তারা।
আহত শিশুদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে জলাতঙ্ক ও সাপের বিষনাশক ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। ফলে জরুরি মুহূর্তে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মহিবুস সালাম খান জানান, দীর্ঘদিন ধরে কুকুর ও সাপের কামড়ের ভ্যাকসিন হাসপাতালে সরবরাহ নেই। উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কিছু ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মোঃ ফয়সল উদ্দিন বলেন, পৌরসভার লোকজন গিয়ে কুকুরটিকে তারা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুকুরটির কোনো ব্যাবস্থা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি উপজেলা প্রাণিসম্পদের বিষয় তিনি বলতে পারবেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, পাগলা কুকুরের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভ্যাকসিন সরবরাহের বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত পাগলা কুকুরটি ধরার এবং হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।
সকাল নিউজ/এমএম

