পঞ্চগড়ে বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীদের আয়োজনে শহীদ ওসমান হাদীর হত্যাকারিদের বিচারসহ ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জ ও বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্যে অন্তত ২৩ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, ওসমান হাদীর হত্যাকারিদের গ্রেপ্তার করে বিচারসহ ৪ দফা দাবিতে দুপুর ২ টার দিকে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারি কলেজ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাংলাদেশপন্থী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থান করে।
তাদের অভিযোগ, সেখানে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বিকেল ৪ টায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বির সমাপনী বক্তব্য চলাকালে আকস্মিক সেনা অফিসার লে. জাহিদের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা মহাসড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সাথে তাদের ধস্তাধস্তি হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের উপর সেনা সদস্যরা লাঠিচার্জ করেছে। এতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন পঞ্চগড়ের নেতা ফজলে রাব্বি, মোকাদ্দেসুর রহমান সান, আতিকুর রহমান, মজাহারুল ইসলাম সেলিম, খোরশেদ মাহমুদ, মাহফুজুর রহমানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন৷
এদিকে, উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী। যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর আদনান মোর্শেদ আল হক বলেন, ‘দীর্ঘ সময় মহাসড়ক অবরোধ থাকায় আমাদের সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তারা আমাদের সদস্যদের উপর উত্তেজিত হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সরিয়ে দেয়ার সময় কারো কারো উপর লাঠির আঘাত লাগতে পারে। তবে লাঠিচার্জ করা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফজলে রাব্বি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলাম। আমাদের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণার পরেও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে লাঠিচার্জ করে।’
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইদ্রাশিশ সান্যাল অঙ্কুর বলেন, ‘২৩ থেকে ২৫ জন রোগী এসেছে। তাদের বেশিরভাগের ব্লান্ড ইনজুরি রয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছি।’
সকাল নিউজ/এসএফ

