বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়েছে ফার্স্ট এইড (প্রাথমিক চিকিৎসা) প্রশিক্ষণ।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০ ঘটিকায় রুমা উপজেলা হাই স্কুল মাঠে এই প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণটি রুমা হাই স্কুল প্রাঙ্গণে গত ৩ মার্চ হতে ১৬ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার (এসবিপি, পিএসসি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-অধিনায়ক মেজর মাহফুজুর রহমান (পিএসসি), ক্যাপ্টেন আরিফ হাসান উদয়, রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো. সোহাগ মিয়া সজীব এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদকর্মীবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি। এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ও জনপদ, যা সমতল ভূমির চেয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা এর মধ্যে অন্যতম। দুর্গমতার কারণে স্থানীয়দের জন্য সরকারি স্বাস্থ্য সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হয়। তাই দুর্গম এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন।’
তিনি আরও জানান, ৩৬ বীর রুমা জোনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে ৬৫ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বাস্তবসম্মত বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দান করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি পাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ একটি করে ‘ফার্স্ট এইড ব্যাগ’ প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রত্যেককে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার সনদপত্র এবং একটি হ্যান্ডবুক দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষার্থীরা জানান, জোন কমান্ডার নিজে উপস্থিত থেকে সরঞ্জাম ও সনদ বিতরণ করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এই উদ্যোগের ফলে দুর্গম পাড়াগুলোতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা পাওয়া অনেক সহজ হবে।
সকাল নিউজ/এসএফ

