লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় একটি সেতুর অভাবে অন্তত তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন। চার দশক ধরে উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের জোড়াপুল ও জুম্মারপাড় এলাকার সানিয়াজান নদীর ওপর কোনো সেতু নেই। ফলে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করছেন। নদীর দক্ষিণ অংশের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার সেতু নির্মাণের জন্য জায়গা পরিদর্শন ও মাটি পরীক্ষা করেছেন। মাপজোকও করা হয়েছে। তবে বছরের পর বছর আশ্বাস মিললেও সেতু আর নির্মাণ হয় না।
প্রতিবছর স্থানীয়দের উদ্যোগ ও অর্থায়নে শুষ্ক ও বর্ষা মৌসুমে এই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সাঁকোটি পুরোনো হলে চলাচল হয়ে ওঠে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সানিয়াজান একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যার উৎপত্তি ভারতের কোচবিহার রাজ্যে। এটি পাটগ্রামের দহগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত। বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আহমেদ হায়দার জামান বলেন, পানবাড়ি গুলডাঙ্গা এলাকায় সানিয়াজান নদীর উপর যে সাঁকোটি রয়েছে সেখানে ১০৪ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ব্রিজ নির্মাণ হবে। যার প্রক্রিয়া এখন টেন্ডারিং পর্যায়ে আছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে ইনশাল্লাহ।’
পাটগ্রাম উপজেলা শহর থেকে একমাত্র সড়কপথে দহগ্রাম ইউনিয়নে যেতে চোখে পড়ে জুম্মারপাড় ও জোড়াপুল এলাকার পাশ দিয়ে প্রবাহিত এই সানিয়াজান নদী। দীর্ঘদিন সেতু না থাকায় নদীর দক্ষিণ অংশের বাসিন্দাদের উপজেলা শহরের হাটবাজারে যেতে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা ঘুরতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয়। বর্ষাকালে নদীর স্রোতে বাঁশের সাঁকো ভেঙে গেলে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ এবং ঝুঁকি চরমভাবে বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর দাবি, অতি দ্রুত সানিয়াজান নদীর ওপর সাকোর পরিবর্তে একটি সেতু নিমাণ করা হোক।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে মানুষের ভোগান্তির ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন নতুন যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন।
সকাল নিউজ/এসএফ


