কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নবনির্বাচিত এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তিন দিনের আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু এরইমধ্যে ৬দিন পার হলেও হয়নি দখলমুক্ত।
সোমবার (২মার্চ) বিকেলে দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্ব স্ব অবস্থানে থেকে ফুটপাত দখলে রেখেই ব্যাবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমান ব্যাবসায়ীরা। তাদের জন্য পুরাতন বাজারে অবস্থিত পৌরসভার যে কিচেন মার্কেট তৈরি করা হয়েছে, সেখানে ৬মাস সম্পূর্ণ ফ্রীতে ব্যাবসা পরিচালনার কথা বলার পরেও সেখানে যেতে আগ্রহী নয় তারা। অপরদিকে জেলা পরিষদ মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড প্রস্তুত করতেও দেখা গেছে।
এসময় ফুটপাত দখল করা ব্যাবসায়ীরা জানায়, আমরা এখান থেকে সড়ে গেলে আমাদের ব্যাবসা হবে না। যদি যেতে হয় সকল কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস, সবজির বাজারসহ সকল বাজার একসাথে নিয়ে গেলে আমরাও সেখানে চলে যাব।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আইনশৃঙ্খলা সভায় এবং পরবর্তীতে একইদিন বিকেলে বাজার ঘুরে ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে তাদেরকে সেখান থেকে তিন দিনের মধ্যে সরে যাওয়ার আহবান জানান কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বারের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
এসময় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে ফুটপাত দখল করে ব্যাবসা পরিচালনায় জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা বিঘ্নিত করে দেবীদ্বারে ফুটপাত দখল করে কোনো ভাবেই ব্যাবসা পরিচালনা করা যাবে না, সেক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। জেলা পরিষদ মার্কেটে অথবা পৌরসভার মার্কেটে তাদের বসতে হবে এর বাইরে না।’
তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আগামী তিন দিনের মধ্যে তাদেরকে সেখানে চলে যাওয়ার আহবান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঐ মার্কেটটি ব্যাবসার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলবেন বলেও ব্যাবসায়ীদের আস্বস্ত করছি। এরপরও যদি না সরেন প্রশাসনিকভাবে যে ব্যাবস্থা নেওয়া হয় তাতে যদি আপনারা (ব্যাবসায়ীরা) ক্ষতিগ্রস্ত হন তাতে আমার কিছুই করার থাকবে না।’
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘পুরাতন বাজার আমাদের পৌরসভার যে কিচেন মার্কেট রয়েছে ব্যাবসায়ীরা সেখানে ৬ মাস সম্পূর্ণ ফ্রীতে ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারবেন।’
তবে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ তিনদিনের মধ্যে জেলা পরিষদ মার্কেট কিংবা পৌরসভার মার্কেটে যাওয়ার কথা বলেছিলেন সে বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘আমাদের প্রশাসনিকভাবে জেলা পরিষদ মার্কেটের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়নি। যদি উনি এমন কিছু বলে থাকেন এটা ওনার ব্যক্তিগত বক্তব্য।’
তিনি বলেন, ‘ইজারা ব্যাতিত জেলা পরিষদ মার্কেটে কাউকে বসানোর এখতিয়ার আমাদের নেই। আন্ডারগ্রাউন্ড হলো পার্কিং এরিয়া। সে জায়গাটি ব্যাবসা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। আমরা বাজার কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে বসে কথা বলে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
সকাল নিউজ/এসএফ

