লালমনিরহাটে মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে তিস্তা চরাঞ্চলের অর্ধশতাধিক ঘর বাড়ি দোকানপাট। কৃষিতেও হয়েছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। আজ বৃহস্পতিবার(১২ মার্চ) ভোর রাতে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তা চরাঞ্চল গোবর্দ্ধন স্প্যার বাঁধ এলাকায় আঘাত হানে আগাম কালবৈশাখী ঝড়।
স্থানীয় ও ক্ষতিগ্রস্থরা জানান, ভোরে সেহরির খাওয়ার সময় হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ধেঁয়ে আসে ঝড় ও বৃষ্টি। মাত্র ১০ মিনিট তান্ডব চালায় ঝড়। এতে প্রায় অর্ধশতাধিক কাচা ঘরবাড়ি ও দোকান পাট লন্ডভন্ড হয়েছে। বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে ভেঙে গেছে ঘর বাড়ি। বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে ঘরের আসবাবপত্র ও দোকানের মালামাল। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। দিনভর সরবরাহ সচল করতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
হঠাৎ আঘাত হানা ঝড়ে কৃষিতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন কৃষকরা। উঠতি আলু, তামাক, মিষ্টিকুমড়া, ভুট্টাসহ নানান জাতে সবজি খেত বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ভুট্টা গাছ মাটিতে নুয়ে পড়েছে। আলু খেতে বৃষ্টির পানি জমে আলু সংগ্রহে বিড়ম্বনায় পড়েছেন চাষিরা। আলু তুলে অনেকেই খেতেই রেখেছেন। তা ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যেসব খেতে পানি জমেছে এবং আলু উঠাতে সময় লাগবে এমন খেতের আলুতে দাগ আসার শ্বঙ্কা করছেন চাষিরা। আলুর মন্দা বাজারে দাগযুক্ত আলুর ক্রেতা থাকবে না। ফলে দুঃচিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
কৃষক গোবর্দ্ধন চরের কৃষক সুমন বলেন, চরাঞ্চলের প্রতিটি খেত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আলু তামাক আর ভুট্টা খেতে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে ঘরবাড়ি। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। সরকারী ভাবে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঘর বাড়ি মেরামতের কোন সহায়তা দেয়া হয়নি। আলু তামাক ভুট্টা খেত ঝড় বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। কিন্তু কৃষি বিভাগের কেউ খবর নিল না। এবার আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
স্প্যার বাঁধের বিধবা লাইলী বেগম বলেন, সেহরি খেয়ে শুইছি, জোরে বাতাস উঠলো। এতে একটি বড় গাছ মরমর শব্দ করে ঘরের উপর পড়েছে। বিছানা ছেড়ে দৌড়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছি। গরিব মানুষ খাবার পাইনা। এখন ঘরটা মেরামত করব কিভাবে? । আমার তো স্বামী সন্তান কেউ নেই।
ভুট্টু মিয়া বলেন, বড় একটা গাছ ঘরের উপর পড়ল, দৌড়ে এসে দরজা কেটে পুত্রবধু ও একমাত্র নাতিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে নিয়ে এসেছি। এরপর অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। এখন ঘরটা মেরামত করব টাকা নেই।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, সেহরির সময় হঠাৎ টর্ণেডো আঘাত হানে। এতে আমাদের ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়েছে। আপাতত হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন মহলে জানানো হয়েছে। বরাদ্ধ পেলে তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে পৌছে দেয়া হবে।
জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এনামুল হাসান। এ সময় তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে পুনবাসনের জন্য দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে। বরাদ্ধ এলে তা ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে পৌছে দেয়া হবে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারহুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করা হচ্ছে।

