সম্প্রতি বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার জেরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে নিয়ে মিডিয়া অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন এ অভিনেত্রী।
এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথাও এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান মেহজাবীন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেন তিনি।
তার কথায়, ‘সাম্প্রতিক যে ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর প্রচার চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এ প্রসঙ্গে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই। প্রথমত, উল্লিখিত কোনো ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি।’
তিনি জানান, ‘আমার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি; আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লিখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সে রকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা আমাকে কোনরূপ জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।’
মেহজাবীন প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার, আমার লাগেজ থেকে অবৈধ কিছু বের হওয়ার কোনো ছবি, ভিডিও বা কোনো ধরনের প্রমাণ কি আছে?’
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি যে আমার লাগেজে অবৈধ কিছু পাওয়া গেছে। অথচ ক্লিকবেইটের জন্য আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারোরই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয়।’
নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এই সকল অভিযোগ অমূলক এবং আমি আবারও বলছি, এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে যা প্রকাশিত হয়েছে সেই ব্যাপারে আমার কোনোই সংশ্লিষ্টতা নেই।’
এর আগে, গত রবিবার সকালে এক পোস্টে মেহজাবীন অভিযোগ করেছিলেন যে, গত কিছুদিন ধরে তাকে নানা বিষয়ে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মাস তিনেক আগে পারিবারিক ব্যবসায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন তিনি, যদিও পরবর্তীতে আদালত থেকে অব্যাহতি পান।
প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্টে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় ফেরার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ ১৪ বোতল মদসহ আটক হন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী- এমন খবর প্রকাশ করে কয়েকটি গণমাধ্যম। ঘটনার সময় নাকি তার সঙ্গে ছিলেন স্বামী নির্মাতা আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্ত।
প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, তাদের লাগেজে ১৪ বোতল মদ পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রকাশ না করে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী। যার জেরে এবার আইনি পদক্ষেপের কথা জানালেন অভিনেত্রী।
সকাল নিউজ/এসএফ

