ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট–১ (হাতীবান্ধা–পাটগ্রাম) আসনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় পাটগ্রাম উপজেলার কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের ললিতারহাট এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন।এতে তিনি জানান, একই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
রাজু অভিযোগ করে বলেন, দুপুরের পর ভোটার উপস্থিতি কম থাকলেও পাটগ্রাম উপজেলায় গড়ে ৮৩ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দেখানো হয়েছে, যা সন্দেহজনক। পাশাপাশি রেজাল্ট শিটে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার বিবরণীর সঙ্গে ঘোষিত ফলাফলের অসঙ্গতি, কিছু ব্যালট ভোট চূড়ান্ত ফলাফলে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার আশঙ্কা, ফলাফল শিটে ঘষামাজা, অনেক কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে কোনো বাতিল ভোট না থাকা এবং কিছু কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন তিনি।
এ ছাড়া ভোটের ফল প্রকাশে দেরি, প্রায় দুই ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ থাকা এবং কয়েকটি কেন্দ্রে জোরপূর্বক তার পোলিং এজেন্টদের আগাম স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন রাজু।
এসব কারণে ভোটগ্রহণ ও গণনা সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে তিনি জানান, কাউয়ামারী, বুড়িমারী, কামারেরহাট, বানিয়াডাঙ্গী ও টংটিংডাঙ্গা এলাকার কয়েকটি কেন্দ্রে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং অনেক এজেন্টকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের বডিঅর্ন ক্যামেরা দুপুরের পর চালু না থাকায় অভিযোগের পর তা সক্রিয় করা হয়।
একইসাথে ভোট সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরকে দুপুরের পর থেকে জরুরী প্রয়োজনে মোবাইল ফোনে কল দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা আমরা দেখিনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও তানভীর হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সকাল নিউজ/এসএফ

