ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ দুই আসনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে ঘোষণা করা হবে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফল ঘোষণার সমাপণী বক্তব্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব তথ্য জানান।
নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার লড়াইয়ে অধিকাংশ আসনেই জয় পেয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত সর্বশেষ বেসরকারি ফলে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে শীর্ষ নেতাদের ভোট প্রাপ্তির চিত্র ছিল চমকপ্রদ।
এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২ আসন। যা মোট সংসদীয় আসনের ৭০ শতাংশ এবং জামায়াত-এনসিপি জোট পেয়েছে ৭৭ টি আসন। যা মোট সংসদীয় আসনের ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রর্থীরা ৭ টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং ১টি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের দলীয় মূল্যায়নে বিএনপি পেয়েছে ২০৯, গণঅধিকার পরিষদ পেয়েছে ১, গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে ১ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) পেয়েছে একটি আসন।
অপরদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস পেয়েছে ২ এবং খেলাফত মজলিস পেয়েছে ১ আসন।
পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭ জন এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।
এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে ৬০.২৬ শতাংশ গণ ভোট পড়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। ফলে অর্ধেকেরও বেশি ব্যাবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়েছে।
এই তথ্য নির্বাচন ভবনের আগারগাঁওয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯৭টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি দুই আসনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন। ঘোষিত ফলাফলের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা কার্যক্রমের সমাপ্তি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে আখতার আহমেদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সবার সহযোগিতা ও ধৈর্যের মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই ধৈর্যের পরীক্ষায় সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল (১২ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর-২, চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ভোটের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখার বিষয়ে তিনটি পৃথক চিঠি জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। ওই চিঠিগুলোতে বলা হয়েছিল, আদালতে মামলা চলমান থাকায় এসব আসনের ফল ঘোষণা করা হবে না। তবে এরই মধ্যে শেরপুর-২ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আপাতত এই আসনের গেজেট না প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
সকাল নিউজ/এসএফ

