কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লবণ উৎপাদন কেন্দ্র। প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই দ্বীপের হাজার হাজার একর জমিতে পলিথিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চাষিরা। চলতি মৌসুমেও কয়েক লক্ষ টন অপরিশোধিত লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ঘন কুয়াশা, অসময়ের বৃষ্টি এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
জানা গেছে, মহেশখালীর মাতারবাড়ী, ধলঘাটা, কালারমারছড়া, বড় মহেশখালী, হোয়ানক, শাপলাপুর ও কুতুবজোম ইউনিয়নে বর্তমানে লবণ উৎপাদনের ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করেও কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় অনেকেই লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
ধলঘাটা ইউনিয়নের আরিফুল ইসলাম বলেন, আমার জন্মের পর থেকেই আমাদের পরিবার লবণ চাষের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এবার লবণের দাম একেবারেই কম। উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, উল্টো শ্রমিকদের মজুরি দেওয়াই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
হোয়ানকের লবণচাষী মোহাম্মদ সাকের বলেন, ‘বর্তমানে লবণের যে দাম আছে তাতে জমির দাম, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য খরচ ওঠানো সম্ভব নয়।’
চাষিরা জানান, আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার কারণে লবণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও বাজারে দাম কম থাকায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এরই মধ্যে কিছুদিন আগে লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেশের লবণ চাষিরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আমদানি হলে দেশীয় লবণের বাজার আরও ধসে পড়বে।
চাষিদের দাবির মুখে পরে সরকার লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এখনও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ কাটেনি লবণ চাষিদের।
চাষিদের দাবি, সরকারিভাবে লবণের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়া-ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়া হলে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত লাখো মানুষের জীবিকা রক্ষা পাবে।
বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ রিদওয়ানুর রশীদ বলেন, ‘দেশে চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টন। কক্সবাজারের মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর, ঈদগাঁও ও টেকনাফ উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার অন্তত ৬৫ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন করা হয়ে থাকে।
সকাল নিউজ/এমএম

