গণমাধ্যমের ওপর একটি বড় সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘মালিকের চাকরি নয়, বিবেকের চাকরি করুন। সাংবাদিকরা যদি বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন, তাহলে দেশের গণমাধ্যম সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন থাকবে।’
দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করা গণমাধ্যমের লক্ষ্য হওয়া উচিত উল্লেখ করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের ভূমিকা অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। মিসইনফরমেশন বা ডিসইনফরমেশনের মাধ্যমে যেন সমাজে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে চকরিয়া উপজেলার জিদ্দাবাজার এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা ও অভিযোগ তদন্তের জন্য দেশে আলাদা প্রেস ইনস্টিটিউট ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা রয়েছে। তবে সামাজিক দায়বদ্ধতা হলো সাংবাদিকের নিজের বিবেকের বিষয়। এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করাই সাংবাদিক সমাজের মূল কর্তব্য।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিতে দেশের গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং তা দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ রয়েছে। গণমাধ্যমের জন্য আলাদা একটি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান, অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের সময়ে একটি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছিল, যা ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে সেই প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে গণমাধ্যমের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যেখানে গণমাধ্যম স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে, সেখানে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। গণতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’ শহীদদের স্বপ্নের একটি গণতান্ত্রিক ও সংস্কারকৃত বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল যুগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে তথ্য মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। তাই গণমাধ্যমকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের সম্মান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমুন্নত থাকে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও সুদৃঢ় হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ১৯৯১ সালে সরকার গঠনের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং গণমাধ্যমের বিকাশ শুরু হয়। তবে গত ১৬-১৭ বছরে গণমাধ্যমের একটি অংশ দলীয়করণে জড়িয়ে পড়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।’
সকাল নিউজ/এসএফ

