শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাও প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটনসহ অন্তত ২০ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
এএফপির খবরে বলা হয়, নিরবচ্ছিন্ন তুষারপাতে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। একের পর এক বাস, ট্রেন ও উড়োজাহাজের পূর্বনির্ধারিত যাত্রা বাতিল হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘পোলার ভরটেক্স’ সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। যার ফলে এ ধরনের চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে।
খবরে বলা হয়, মেরু অঞ্চল থেকে ধেয়ে আসা শুষ্ক ও শীতল বাতাসে হাড় কাঁপানো ঠাÐা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে । একই সঙ্গে প্রবল বরফপাত, জোরালো বাতাস, বরফ-শীতল বৃষ্টিধারা ও শিলাবৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে দেশটির লাখো মানুষ।
আবহাওয়াবিদরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা ফেব্রæয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হিমাংকের নিচেই থাকবে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানায়, ‘আজ রাতে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে সর্বনি¤œ তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শীতকালীন ঝড়ের কারণে অনেক এলাকা এখনো বিদ্যুৎবিহীন। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক।’
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় আকাশ পরিষ্কার হয়ে এলেও উত্তর-পশ্চিমের এলাকাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে তুষারপাত অব্যাহত আছে। কানেকটিকাটে এক দিনেই ২২ ইঞ্চি (৫৬ সেন্টিমিটার) বরফ পড়েছে। বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস-এ ১৬ ইঞ্চিরও (৪০ দশমিক ছয় সেন্টিমিটার) বেশি বরফ পড়ে।
পাওয়ার আউটেজ ডট কম জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের টেনেসি, টেক্সাস, মিসিসিপি ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা এই বৈরি আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মার্কিন জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৯ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ভাবে প্রবল ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কবলে পড়েছে।
সকাল নিউজ/এমএম

