এবার ‘একুশে পদক’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। জীবদ্দশায় রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত ও আবেগাপ্লুত এই সিনেতারকা। নিজের এই অর্জনকে তিনি উৎসর্গ করেছেন কিংবদন্তি নির্মাতা জহির রায়হানকে। যার হাত ধরে তাকে রুপালি জগতে এসেছেন ববিতা।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রিয় এ পদকের জন্য মনোনীতদের নাম ঘোষণার পর থেকেই সহকর্মী, প্রিয়জন ও ভক্ত-শুভাকাঙ্খিদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন এই অভিনেত্রী। এর প্রতিক্রিয়ায় ববিতা বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে অসীম শুকরিয়া। জীবদ্দশায় এমন রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমি রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞ। আমার ভক্ত ও সংবাদমাধ্যমের কাছেও আমি ঋণী, কারণ শুরু থেকে আজ অবধি তারা আমাকে অফুরন্ত ভালোবাসা দিয়ে আসছেন।’
চলচ্চিত্রে ববিতার অভিষেক হয়েছিল জহির রায়হানের হাত ধরে। ক্যারিয়ারের এই মাহেন্দ্রক্ষণে তাকে স্মরণ করে ববিতা বলেন, ‘আমার চলচ্চিত্রে আসা শ্রদ্ধেয় জহির রায়হানের হাত ধরে। আজ এই বড় প্রাপ্তিটি আমি তাকেই উৎসর্গ করছি।’
১৯৭৫ সালে ‘নয়নমণি’ সিনেমার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ববিতা। এরপর একে একে ‘বসুন্ধরা’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘রামের সুমতি’ ও ‘হাছন রাজা’র মতো কালজয়ী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন। প্রযোজক হিসেবেও তিনি সফল, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’র জন্য পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ প্রযোজকের সম্মাননা। ২০১৬ সালে তিনি লাভ করেন ‘আজীবন সম্মাননা’।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ববিতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ববিতাকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বদরবারে। আজও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের সমার্থক হয়ে আছেন তিনি। ২০১৫ সালে ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ সিনেমায় তাকে শেষবার বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল। এরপর প্রায় এক দশকের বিরতি।
অভিনয়ে ফেরা প্রসঙ্গে ববিতা জানান, ‘প্রায় তিনশ সিনেমায় অভিনয় করেছি। এখন শুধু নিজেকে কেন্দ্র করে শক্তিশালী কোনো গল্প এবং ভালো চরিত্র পেলেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াব। না হলে অভিনয়ে আর ফেরা হবে না।’
বর্তমানে ববিতার একমাত্র ছেলে অনিক কানাডায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা থেকে শুরু করে জাফর ইকবালের মতো নায়কদের সঙ্গে জুটি বেঁধে ববিতা ঢাকাই সিনেমাকে যে স্বর্ণযুগ উপহার দিয়েছেন, একুশে পদকপ্রাপ্তি সেই পথচলারই এক শ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি।
সকাল নিউজ/এসএফ

